স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্টের সতর্কতা

সুপ্রভাত বহির্বিশ্ব ডেস্ক

‘স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা’র ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশের অর্থনীতির একটি অংশ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চীনের হুনান প্রদেশের বোয়াও শহরে ‘বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া’ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে এই ঘোষণা দেন তিনি। গাড়ি আমদানির ওপর কর কমানোর পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট তার দেশে বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের শর্ত শিথিল করারও প্রতিশ্রুতি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা হিসেবে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। খবর বাংলাট্রিবিউনের।
বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া এক অলাভজনক সংগঠন। তারা মূলত এশিয়া ও অন্যান্য মহাদেশের বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। এ সম্মেলনে তারা এশিয়া অঞ্চলের অগ্রসরমান অর্থনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এবারের সম্মেলন চলবে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।
সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব নিরসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ব্যাপারে কিছু বলেননি শি জিনপিং। এই দ্বন্দ্বের ফলে দুই দেশে একে অপরের পণ্যে পাল্টাপাল্টি কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচ্ছন্ন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ব্যাপারে শি জিনপিং ‘উন্মুক্ততা’র কথা বলেছেন।
চীনা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের এই সমাবেশে শি জিনপিং বলেন, মানব সমাজকে এখন উন্মুক্ত ও বন্ধ পন’ার মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। যার মাধ্যমে সমাজ সামনে এগিয়ে যাবে অথবা পিছিয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তি ও সহযোগিতার প্রবণতা এগিয়ে চলছে। আর ‘স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা’ ও ‘জিরো সাম গেম’ চিন্তা সেকেলে হয়ে পড়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, অন্যদের বাদ দিয়ে কারও নিজের সমপ্রদায়ের চিন্তা শুধু বিভেদের দিকে নিয়ে যাবে। আর শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন ও একসাথে কাজ করার মাধ্যমে আমরা সব পক্ষই লাভবান হতে পারবো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের কয়েশ পণ্যের ওপর করারোপের ঘোষণা দিলে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। শি জিনপিংয়ের বক্তব্যের পর তিনি এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীন তার পূর্বঘোষিত উন্মুক্ত অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। চীন আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে নিজের বাজারে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি যৌথ বিনিয়োগ ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ হস্তান্তরের বাধ্য করছে বলে অভিযোগও করে আসছে দেশটি।