তবলছড়ির সিংহপাড়ায়

স্থানীয়দের অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে আলী হায়দারের মৎস্য খামার

নিজস্ব প্রতিনিধি, মাটিরাঙা

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি জনপদের পৈত্রিক পরিত্যক্ত জমিতে বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে লেক। আর লেকে চাষ হচ্ছে তেলাপিয়া, কার্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। দেশী শিং মাছেরও চাষ হচ্ছে সেই লেকে। আর সেই পতিত ভুমিতেই লেক সৃষ্টির মাধ্যমে মৎস্য চাষে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন মাটিরাঙার তবলছড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সিংহপাড়ার আত্মপ্রত্যয়ী যুবক মো. আলী হায়দার।
২০০৪ সালের দিকে একটি লেক দিয়ে মৎস্য চাষ শুরু হলেও বর্তমানে তার পরিধি বাড়িয়ে ১০ একর ভুমিতে বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় ১৭টি মৎস্য লেক। মৎস্য চাষে পেয়েছেন অভাবনীয় সাফল্য। কাঙ্খিত সাফল্য পাওয়ার পর মাছ চাষের পরিধি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান এ তরুণ মৎস্যচাষি। ছোট-বড় ১৭টি লেক থেকে বছরে ৪০-৪৫ মেট্রিকটন মাছ বিক্রি হয় জানিয়ে মো: আলী হায়দার জানান, চলতি বছরে মাছ বিক্রি থেকে ১৭ লাখ টাকারও বেশি আয় করেছেন সফল এ মৎস্য চাষি।
সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও মাছ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে পাহাড়ি জনপদে মৎস্য চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন মো. আলী হায়দার । মুক্তিযোদ্ধা বাবা মোহাম্মদ আলীর অনুপ্রেরণা আর প্রকৌশলি বড় ভাই মো. আলী নুরের পরিকল্পনায় তিনি গড়ে তুলেছেন মৎস্য প্রকল্পটি। পরিবারের প্রতিটি সদস্যই মৎস্য চাষে তাকে সহযোগিতা করেন বলে জানান তিনি।
তার লেকে উৎপাদিত মাছ আশেপাশের দুটি ইউনিয়নের কয়েকটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ফলে স্থানীয়রা স্বল্প মূল্যে হাতের কাছেই পাচ্ছে তরতাজা মাছ। আলী হায়দার জানান, মৎস্য চাষের ফলে শুধু তাদের পারিবারিক উন্নতিই হয়নি, এলাকার অনেক যুবকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি মনে করেন ,সরকারিভাবে মাছের রোগ নির্ণয় ও বিনামুল্যে ওষুধ পাওয়া গেলে মৎস্য চাষের পরিধি আরও বাড়বে। সরকারি উদ্যোগে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হলে এলাকার অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠির সমন্বয়ে এ এলাকাকে একটি মৎস্য জোনে পরিণত করা সম্ভব বলেও জানান তিনি। সীমান্ত এলাকায় গড়ে ওঠা এ মৎস্য খামারে যাতায়াতের রাস্তা খারাপ হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে চলাচল করা কষ্টকর ও অসম্ভব হয়ে উঠে। রাস্তাটি পাকা করা হলে মাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও রেনু পোনা মাছ পরিবহণ সহজ হতো বলে জানান তার ভাই মো: আলী আকবর। আর এতে লাভের পরিমাণও বেড়ে যেতো বলে মনে করেন তিনি। স্বল্প সময়ে মৎস্যচাষে সাফল্য পাওয়া মো. আলী হায়দার এখন অনেকের কাছেই অনুকরণীয়। তার দেখানো পথ ধরে আশে-পাশের গ্রামেও গড়ে তোলা হচ্ছে ছোট-বড় মৎস্য খামার। মৎস্য চাষে যুক্ত হচ্ছে এলাকার শিক্ষিত যুব সমাজ। তবে প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মৎস্যচাষের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।