স্ত্রীকে খুন করে নিজেকেও শেষ করতে চাইলেন স্বামী

নিজস্ব প্রতিনিধি, চন্দনাইশ

স্ত্রীর নামে থাকা ভিটে নিজের নামে করতে না পারায় ৮ মাসের অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করেছে ঘাতক স্বামী। নিহত স্ত্রীর নাম শাহিন আকতার (৩৬)। আর ঘাতক স্বামীর নাম মো. আবু তৈয়ব (৪৮)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোলার বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তৈয়ব পুলিশি পাহারায় বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস’াও আশঙ্ক্ষাজনক বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বিগত ১৮/২০ বছর পূর্বে বৈলতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টুনু মিয়ার প্রথম ছেলের (নাম পাওয়া যায়নি) সাথে বিয়ে হয় একই এলাকার নুরুল আলমের কন্যা শাহীন আকতারের। বিয়ের ৮/১০ বছরের মাথায় শাহিনের প্রথম স্বামী মারা গেলে তার দেবর প্রবাসী আবু তৈয়ব দেশে এসে ভাবী শাহিন আকতারকে বিয়ে করে। বিয়েতে কাবিননামা হিসেবে তৈয়ব তার স্ত্রী শাহিন আকতারের নামে ভিটে ক্রয় করে দেয় এবং ওই ভিটেতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে। কিন’ বিয়ের পর তৈয়বের আর্থিক অবস’া খারাপ হয়ে যায়। এ নিয়ে স্ত্রীর সাথে সবসময় ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। একসময় শাহীন আকতারের নামে কেনা ভিটেটি তার নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করে। কিন’ শাহিন স্বামীর নামে ভিটে রেজিস্ট্রি করে দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। ঘটনার দিনও স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং শাহিন তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে ক্ষীপ্ত তৈয়ব ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে ধারালো দা দিয়ে স্ত্রী শাহিন আকতারের গলা কেটে দেয়। এসময় আবু তৈয়ব নিজেও দা দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
পরবর্তীতে স’ানীয় লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে শাহিন আক্তার ও আবু তৈয়বকে উদ্ধার করে এবং থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস’লে উপসি’ত হয়ে তাদেরকে চন্দনাইশ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে আবু তৈয়বকে আশঙ্ক্ষাজনক অবস’ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। নিহত শাহিন ৮ মাসের অন্তঃসত্তা ছিল এবং তার ২ টি ছেলে ও ৪ টি কন্যা সন্তান রয়েছে বলে জানায়।
নিহত শাহিন আকতারের পিতা নুরুল আলম ও মা রমিজ খাতুন সাংবাদিকদের জানান, আবু তৈয়ব আরেকটি বিয়ে করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের মেয়েকে মারধর ও নির্যাতন করে আসছিল। এমনকি তার নামে থাকা ভিটেটিও নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এসময় ঘাতক তৈয়বের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ উদ্দীন আহমদ খন্দকার জানান, ঘটনাটি তদন্তধীন এবং এ ব্যাপারে মামলার প্রস’তি চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন