স্কুলের জায়গা বেদখল খেলার মাঠ সংকট কর্তৃপক্ষ নিরব

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলীকদম
lama pic, 22 may-18- (1)

আলীকদম উপজেলার ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও বেচাবিক্রি করে চলেছেন স’ানীয় প্রভাবশালী মহল। বিদ্যালয়ের এক একর ষাট শতাংশ জমির মধ্যে এক একর বিশ শতাংশই দখলে নিয়েছেন তারা।
ফলে ৬০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির একদিকে আঙিনার পরিধি কমে খেলাধুলা করতে পারছে না কোমলমতি ছাত্রেরা। অন্যদিকে সৌন্দর্য হারিয়েছে বিদ্যালয়টি। স’ানীয় মাস্টার নুর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা আবদুল মান্নান ও মাস্টার আবদুল হান্নান মিলে দখলকৃত স্কুলের জায়গা বিক্রি ও ঘরবাড়ি তৈরিসহ চাষাবাদ করছেন। এদের বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছে না স’ানীয়রা।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের সামনে আনুমানিক ৪ শতাংশ পরিমাণ একটি মাঠ রয়েছে। ১৬০ শতাংশ জমির মধ্যে বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, মাঠসহ আনুমানিক ৪০ শতাংশ জমি দখলে রয়েছে। পার্শ্বে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে স্কুল সংলগ্ন সীমানায় একটি পাকাঘর গড়ে তোলা হচ্ছে। আশপাশের স্কুলের জায়গা জুড়ে করা হচ্ছে চাষাবাদ।
স’ানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের জায়গা দখল করে বাড়িঘর ও ক্ষেত-খামার করলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসন তা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। এতে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স’ানীয় দেলোয়ার হোসেন, তহিদুল ইসলাম, আহাম্মদ নবী, নুরুল হুদা, সরোয়ার আলমসহ বেশ কয়েকজন নাগরিক জানান, ‘বিদ্যালয়ের জমিতে স’াপনা না করা ও জায়গা ছেড়ে দিতে মৌখিকভাবে দখলদারদের বারবার নিষেধ করে ব্যর্থ হয়ে উপজেলা-জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। কিন’ বিদ্যালয়ের ১৬০ শতাংশ জমির মধ্যে দখলে আছে মাত্র ৪০ শতাংশ। বাকি সম্পত্তি উল্লিখিত ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে’।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স’ানীয় মাস্টার নুর মোহাম্মদ, মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা আবদুল মান্নান ও মাস্টার আবদুল হান্নান স্কুলের নামীয় ১২০ শতাংশ জমি বহু বছর ধরে দখল করে আছেন। তারা এটা তাদের নিজের সম্পত্তি বলে প্রতিবেদকের নিকট দাবি করেন। অন্যদিকে স’ানীয়রা জানান, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের সহায়তায় বিদ্যালয়ের এই সম্পত্তি ক্রমাগত বেদখলে চলে যাচ্ছে। ভরিরমুখ গ্রামের অন্য বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে না আসায়, ক্লাস না নেয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে এখানে।
দখলদার মাস্টার আবদুল হান্নান বলেন, ‘ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মিত হয়েছে আমাদের জায়গায়। ১৯৫৮-৫৯ সালে সরকার ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ৬৩০ নম্বর রিজামশান মামলা মূলে আমাদের ২৮৯ নম্বর চৈক্ষ্যং মৌজার ৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৪.৬৩ একর জমি খাস করে।
সেখান থেকে ১৬০ শতাংশ জমি ভরিরমুখ স্কুলের নামে বরাদ্দ দেয়। এদিকে ১৯৭২ সালে ওই রিজামশান মামলার বিরুদ্ধে আমাদের পক্ষ থেকে রিভিউ মোকাদ্দমা করা হলে ১৯৭৬ সালে এক আদেশে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ওই খাস করার রিজামশান মোকাদ্দমার আদেশ উঠিয়ে নেন।
এদিকে স’ানীয়রা জানান, সরকার ৪.৬৩ শতাংশ জমি খাস করে ১২৮ নম্বর হোল্ডিং পরবর্তীতে ১১৫ নম্বর খতিয়ানের দাগ নম্বর ৭০২ থেকে ১৬০ শতাংশ জমি ভরিরমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ দিয়ে সেখানে স্কুলভবন নির্মাণ করে দেয়। কয়েক বছর পর জমির মালিকের দায়েরকৃত রিজামশান মোকাদ্দমা সরকার উঠিয়ে নিলেও সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬০ শতাংশ জমি বরাদ্দ বাতিল কিংবা এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই, ছিল না। সূতরাং জনস্বার্থে সরকারি সম্পদরক্ষায় রিজামশান মোকাদ্দমা উঠিয়ে নেয়ার বিষয়টি ভরিরমুখ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের নামীয় ১৬০ শতাংশ জমির বেলায় প্রযোজ্য হতে পারে কিনা সে ব্যাপারে আইনি জটিলতা রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে অভিযোগ হয়েছে। উধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস’া নেয়া হবে।