ইভিএমে প্রশিক্ষণ নিলেন ৮৭ মাস্টার ট্রেইনার

সোমবার থেকে কোতোয়ালীর সব কেন্দ্রে ‘ডামি ভোটিং’

মোহাম্মদ আলী

একাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালী-বাকলিয়া আসনে প্রদর্শনী চললেও ডাটা এন্ট্রি না হওয়ায় ভোটাররা ইভিএমে ডামি ভোট দিতে পারছেন না। তবে ১৭ ডিসেম্বর সোমবার থেকে এ আসনের ভোটাররা ইভিএমে ‘ডামি ভোট’ দিয়ে পরখ করে নিতে পারবেন। এ লক্ষ্যে কাল রোববার চট্টগ্রামে আসছে ২৮৮টি ইভিএম। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় কোতোয়ালী আসনের সব কেন্দ্রে সোমবার থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলবে ইভিএমে ‘ডেমোনেস্ট্রেশন’ ও ‘মক ভোটিং।’
এদিকে কোতোয়ালী আসনের ১৪৪টি কেন্দ্রের জন্য আজ শনিবার বিকাল ২টার দিকে ২৮৮টি ইভিএম বিতরণ করবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু বিভাগ। ‘ডামি ভোটিং’ এ প্রতি কেন্দ্রে ব্যবহৃত হবে ২ সেট ইভিএম। এসব ইভিএম গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে গত বৃহস্পতিবার দাপ্তরিক পত্র দিয়েছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনু বিভাগের উপ পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। ইভিএম গ্রহণের জন্য গতকাল রাতে ঢাকায় গেছেন নির্বাচন অফিসের সহকারী মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে আসতে আসতে রোববার হয়ে যাবে।’
জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মুনির হোসাইন খান বলেন, ‘ইভিএমের একটি চালান কাল রোববার চট্টগ্রাম এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।’
এদিকে, গতকাল শুক্রবার থেকে নগরীর ৩টি ভেন্যুতে শুরু হয়েছে ইভিএমে ভোটগ্রহণে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ। রিটার্নিং অফিসার তথা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ এবং জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ আজ শনিবারও চলবে। গতকাল দুই রিটার্নিং অফিসার তথা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান ও জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনির হোসাইন খান, কোতোয়ালী আসনের দুই সহকারী রিটার্নিং অফিসার শ্রাবন্তী রায় (চট্টগ্রাম বিভাগের স’ানীয় সরকার উপ পরিচালক) ও মো. শহিদুল ইসলাম (বন্দর থানা নির্বাচন অফিসার) এবং কোতোয়ালী থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলমসহ মোট ৮৭ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আইডিয়া প্রকল্পের ১২ জন টেকনিক্যাল এক্সপার্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম সুপ্রভাতকে বলেন, ‘প্রশিক্ষণে ইভিএম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। কিভাবে ইভিএমের ব্যবহার করতে হবে, কোন অংশের কি কাজ, ত্রুটি দেখা দিলে কিভাবে সমাধান করতে হবে, কিভাবে ইভিএম চালু করতে হবে, ইভিএমের ইতিহাস ইত্যাদি ইত্যাদি হাতে কলমে শিখেছি।’
কামরুল আলম জানান, বাংলাদেশে সর্ব প্রথম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ২১ নম্বর জামাল খান ওয়ার্ডে ইভিএমে ব্যবহার হয়েছিল। একাদশ সংসদ নির্বাচনে কোতোয়ালীর প্রতিটি কেন্দ্রে একটি অতিরিক্ত ইভিএম রাখা হবে। ইভিএমে ৩ ধরনের কার্ড থাকে। ভোট গ্রহণের সময় মেশিনে সমস্যা দিলেও ‘পোলিং কার্ডে’ সকল তথ্য সংরক্ষণ থাকবে। ওই পোলিং কার্ড নতুন ইভিএমে সেট করে আবার ভোট গ্রহণ শুরু করা যাবে।
নির্বাচন অফিস জানায়, গত বুধবার থেকে কোতোয়ালীর আসনের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ইভিএমে ভোট প্রদান পদ্ধতি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ শুরু করেছে জেলা নির্বাচন অফিস। এ আসনে মোট বুথের সংখ্যা ৯২০টি, কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৪টি এবং মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৪৩১ জন। ৫ শতাংশ অতিরিক্তসহ মোট ১৫১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৯৬৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৩২ জন পোলিং অফিসার এ আসনে ইভিএমে ভোট গ্রহণে কাজ করবেন। ২১-২৪ ডিসেম্বর এ আসনের ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।