সোনার হরিণ

আহমেদ মনসুর

বাবরের সময় এখন সিভি হাতে কর্পোরেট অফিসগুলোতে ঘুরেই কাটছে। কর্মী হিসেবে সবাই অভিজ্ঞ লোক চায়। অভিজ্ঞতার শর্তে চাকরিই যদি না মিলে, অভিজ্ঞতা আসবে কোথা হতে? এ তো আর মঙ্গল গ্রহ থেকে নিয়ে আসা যায় না, মায়ের পেট থেকেও কেউ নিয়ে জন্মায় না। এ নিয়ে বাবর কিছুটা হতাশ হলেও হাল ছাড়ে না। হাল ছেড়ে দিলে চলবে কি করে, বাবা-মায়ের কত স্বপ্ন- ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নিলো, একটা চাকরি হবে, বউ আনবে ঘরে, দূর হবে পরিবারের অনটনও।

নিজের ক্যারিয়ার, বাবা-মায়ের স্বপ্ন তাকে হাল ছাড়তে দেয় না। প্রথম আলো, আজাদী, পূর্বকোণ পয়সা দিয়ে কেনার সামর্থ না থাকলেও টিউশনির টাকায় ‘চাকরির খবর’ কাগজটি সে নিয়মিত কিনে। বিজ্ঞপ্তি দেখে সিভি জমা দেয়। কেউ ডাকে, কোনটার খবরও থাকে না।
নিয়োগ পরীক্ষাগুলো হয় ঢাকায়। টিউশনির টাকায় ভাতে কাপড়ে চলতে যেখানে টানাটানি, মাথায় দিলে পাছা দেখা যায়, পাছা ঢাকলে মাথা ঢাকা দায়, এমতাবস’ায় ঢাকায় গিয়ে থাকা-খাওয়া, গাড়ি ভাড়া মিটানো বাবরের পক্ষে সত্যিই কঠিন। প্রবেশপত্র হাতে পেলেও তাই অনেকগুলো পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয় না ওর। কিছু নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে তিন/চারশ টাকার ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হয়। শুধুমাত্র একারণে অনেক জায়গায় আবেদন করতে পারে না বাবর।
শ্যামপুর গ্রাম, আর গ্রাম নেই। পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান নেই। গ্রামের ঠিক মাঝ দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা রাস্তাটি আর মেঠো নেই, পিচ ঢালা পাকা পথ এখন। শন দিয়ে ছাওয়া বেড়া কিংবা মাটির ঘরগুলো সব ইট-সুরকির দালান। মাইলের পর মাইল হেঁটে গিয়ে বাজার এখন করতে হয় না। ঘরের কাছে দোকান। টাকা দিলে সমস্ত কিছুই হাতের নাগালে। মাসে ছয় মাসে বাবর শহর থেকে বাড়িতে এসে ভিরমি খায়। আশ-পাশ রাতারাতি বদলে গেলে অচেনা লাগে। বাবা নামের এক ট্যাবলেটের কারবার করে আর দিনসুদে টাকা লাগিয়ে অনেকের ভাগ্য ফিরে গেছে রাতারাতি। বাবরদের ফেরেনি।
বাবরের বাবা কৃষি কাজ করে বড় দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন গিরস’ ঘর দেখে, দুই গণ্ডা জমি বিক্রি করে হজ্বও করেছেন। বাবর সবার ছোট। ও যখন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তখন থেকেই আলী মুনসির শরীরে ভাটার টান। তারপরও একমাত্র ছেলেকে এসএসসি পাস করিয়ে শহরে পাঠিয়েছেন উচ্চ শিক্ষার জন্য।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স শেষ করে হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজছে বাবর। ক’দিন পর মাস্টার্সে ভর্তি হবে। ওর টিউশনির টাকায় চলে বাবা-মায়ের সংসার। মেসের খরচও এখন বেড়েছে। ব্যাচেলদের বাসা পাওয়া মুসকিল। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়-য়ারা বাসা না পেয়ে রাগে ক্ষোভে ফেসবুকে বাড়িওয়ালদের উদ্দেশ্যে লিখে- ‘ব্যাচলররা যেহেতু বদ, তাদের বাসা ভাড়া দেওয়া যায় না, আপনার মেয়েকেও কোন ব্যাচেলরের সাথে বিয়ে দিয়েন না।’
বাবরের মামা খালু কেউ নেই উপরে, ঘুষের দায় মিটিয়েও প্রতিযোগিতার বাজারে চাকরির মতো একটা সোনার হরিণ অর্জন করা যুদ্ধ জয় করার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। বাবর স্বপ্ন দেখে, স্বপ্নের পরিণতি নিয়ে ভাবে, এ ভেবে চোখে অন্ধকার দেখে। দুঃস্বপ্নের রাত কালের হিসেবে ভোর হয় বটে, আলো ফোটে না।
প্রতিদিন টিউশনি শেষ করে বাসায় ফিরে আধঘণ্টার মতো ফেসবুকে ঢুঁ মারে বাবর। তারপর বসে যায় বই নিয়ে। চাকরির পরীক্ষার জন্য বাজারে কিছু বিশেষ বই পাওয়া যায় এগুলোই আপাতত পড়ছে ও। চাকরির কোচিং এখন ব্যাঙের ছাতার মতো। ভর্তি হওয়ার সামর্থ ওর নেই। ফেসবুকে ঢুকতেই নিউজ ফিডে অনলাইন নিউজ পোর্টালের একটা পোস্ট দেখে চোখ আটকে যায় বাবরের। লেখাটার শিরোনাম এই- কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজপথে চাকরি প্রার্থীরা।
বিস্তারিত পড়ে নিজের অজান্তে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে আসে তার। আর বসে ভাবে- মেধাবীরা চাকরি না পাওয়ার জন্য কোটাই কি একমাত্র অন্তরায়? মোটেও নয়। প্রথমত চাকরির তুলনায় চাকরি প্রার্থীর আধিক্য তারপর স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের খেলা। কোটা কোটা করে শক্তি ক্ষয়ে কী লাভ, পারলে বেটারা ওসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করুক। তা করবে কেন? প্রাণের ভয় তো পাগলেরও আছে! তার উপর চলছে গুমের মৌসুম। দোদুল্যতার দোলাচলে দুলতে দুলতে চোখ জুড়ে কখন নিদ্রা এসে ভর করে বাবর জানে না। তাতে একটা লাভ হলো বটে, রাতের খাবারটা আর কষ্ট করে রান্না করতে হলো না। ঘুম ভেঙে গেলে দেখে জানালার ফাঁক গলে এক চিলতে আলো এসে ঢুকেছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে আটটা বেজে গেছে। আগ্রাবাদ যাওয়ার ছিলো। একটা প্রাইভেট কোম্পানির অফিসে ভাইভা, অফিস সহায়ক পদে। বেতন আট হাজার, তবুও উপায় কী? এক টাকা যখন এক মোহর, তখন ভাবনার অত কাজ নেই। তাড়াহুড়ো করে যেই টয়লেটে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়, দরজায় টক টক শব্দ। খুলে দিতেই দারোয়ান-
: সম্রাট বাবর সাব, হাম অইয়ে পানলার, অনর চরীর চিডি মনে’অয়, চ-অন, খুলি চ’অন।
মুহূর্ত বিলম্ব না করে দারোয়ানের হাত থেকে চিলের মতো ছোঁ মেরে খামটা নিয়ে নেয় বাবর। পড়ে ম্লান হাসলো সে।
: জলিল ভাই এক্কেনা দোয়া গইজ্জুন। লিখিত পরীক্ষাত টিক্কি, ভাইভাল্লাই ডাইক্কে। এ মাসর ১৫ তারিখ ভাইভা। বেতন ভালা, সরকারি চ-অরী।
: আল্লাহ অনর আশা পূরণ গরক, অ’নর মা-বাপর আশা পূরণ গরক।
মুখের ভেতর আরও কি বলতে বলতে এক ধাপ দুই ধাপ করে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যায় জলিল। বাবর তার নেমে যাওয়া দেখতে থাকে। আগ্রাবাদ আর যাওয়া হয় না, ভাইভার প্রস’তি নিতে আরম্ভ করে।
কোটাবিরোধী আন্দোলনে হামলা হয়, দেশ জুড়ে ঘটে যায় আরো কত ঘটনা। কর্ণফুলীতে অনেক জল গড়ায়, ঘোলা হয়, বাবরের ওসবে মাথা দিলে চলে না, ক্ষুধার রাজ্যে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। আঙুলের কড়ায় দিন গুনে। পাঁচ, ছয়, সাত। পনের তারিখটা আসে না কেন! প্রতীক্ষার প্রহর আট ঘণ্টায় নয়, যেন এর চেয়ে অধিক। প্রেমের ক্ষেত্রে যা, চাকরির ক্ষেত্রেও তাই।
১৫ তারিখ আসলে কাকডাকা ভোরে ঘুম ভাঙে ওর। সবচেয়ে সুন্দর জামাটি গায়ে, প্যান্টটা পরনে, পলিশ করা তকতকে জুতা জোড়া পায়ে গলিয়ে একেবারে কেতাদুরস্ত। আয়নার সামনে নিজেকে অচেনা লাগে। ‘ভালো জামায় আমাকে তো সত্যিই নায়কের মতো লাগে।’ স্বগতোক্তি করে সে।
পাঠাও অ্যাপসে ক্লিক করতেই বাইক নিয়ে এক লোক হাজির। বাবর উঠে বসে। যাবে বাকলিয়া থেকে লাভলেইন। ভাড়া ৬০ টাকা। এ এক দারুণ চিজ। হাজারো দিকদারী ছাপিয়ে অনলাইনের সুফল পেতে শুরু করলো মানুষ। ভাবে বাবর। চাকরি খুঁজতে খুঁজতে পেরেশান হয়ে সেও ভেবেছিলো ধার কর্জ করে হলেও বাইক একটা নিয়ে এই লাইনে নেমে পড়বে। তা আর হয় না। মায়ের দিব্যি- দুই চাকার গাড়ি কোনভাবেই চালানো যাবে না। কোনদিন বাইসাইকেলও চালায়নি যে, সে চালাবে মোটরসাইকেল?
ওয়েটিং রুমে বাবর-সহ কেতাদুরস্ত আরো জনাআটেক বসা। একে একে ডাক পড়তে আরম্ভ হলো। বাবরের ডাক পড়ে দু’জনের পর। প্রথম দু’জন ভাইভা দিয়ে বের হলে বাকিরা ঘিরে ধরে তাদের। কি প্রশ্ন করলো? কেমন হলো ভাইভা? বাবর ওসবে নেই, নীরবে বসে আছে এক কোণায়।
ডাক পড়লে ভিতরে প্রবেশ করে বাবর। প্রকাণ্ড টেবিলের ওপাশে মাঝবয়সী এক ভদ্রলোক। উঁচু স’রের সরকারি কর্মকর্তা বোঝা যায়। বাবরকে বসতে বলেন তিনি। কোনরুপ ভূমিকা ছাড়াই প্রশ্ন করেন-
: পাঁচ লাখ দিতে পারবেন?
এ কেমন প্রশ্ন বাবর বুঝতে পারে না। হা করে শুধু তাকিয়ে থাকে লোকটির দিকে।
: বুঝতে পারছেন না তো; বাইরে যারা বসে আছেন প্রত্যেকেই এই পদের জন্য ফিটেস্ট, তবে আমি তাকেই মনোনীত করবো, যিনি পাঁচ লাখ দিতে পারবেন। চাকরি পাওয়া অত সহজ নয় বাবর সাহেব। এ বস’ এখন সোনার হরিণ, বুঝলেন?
বাবরের মুখে রা নেই। পাঁচ লাখ টাকা যার আছে তাকে চাকরি খুঁজতে হবে কেন তা মাথায় আসে না ওর। চাকরির পিছনে না ছুটে, ও টাকায় টুকটাক ব্যবসাপাতি তো করা যায়! কি জবাব দেবে বুঝতে না পেরে সে আমতা আমতা করে। কিছু বলার ভাষা বা সঙ্গতি তার নেই। বড়কর্তা ঝানু লোক, চেহারা দেখেই দিব্যজ্ঞানে বুঝতে পারেন সব। বিলম্ব না করে বেল টিপে পরের জনকে ডাকেন আর বলেন-
: আপনি এখন আসতে পারেন বাবর সাহেব।
বাবর এক বুক হতাশা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়, মিশে যায় নাগরিক কোলাহলে। যেখানে কেউ কারো আড়ালে নয়, অথচ কেউ কাউকে দেখে না। এখানে কেউ হাঁটে না, দৌঁড়ায়। জীবন যুদ্ধের একেকজন সৈনিক, কেউ জয়ী, কেউ পরাজিত। তবুও সবাই জীবিত, কেউ এখানে শহীদ হয় না, কেউ কেউ গাজী হয়, আর বাকিরা হয় বাবর।
বাসায় ফিরে ডিম আলু সিদ্ধ করে ভরপেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে বাবর। মুরগি যদি ডিম না দিতো, কৃষক যদি আলু চাষ না করতো, তাহলে ব্যাচেলররা কি খেয়ে বাঁচতো কে জানে!
বুড়ো মতন এক লোক আসে। শিয়রের পাশে বসে মাথায় বেণী কাটতে কাটতে বলেন- ‘দমে যাওয়া মানে পরাজয়, শেষ বলে আদৌ কি কিছু আছে? নেই, আরেকটা ধাপ হাত বাড়িয়ে ডাকছে দেখ ওই। দাও বাবর দাও হাতটা বাড়িয়ে দাও, দাও হাতটা বাড়িয়ে, বলছি না হাতটা বাড়িয়ে দিতে-’। বিকট চিৎকারে চকিতে তার ঘুম ভেঙে যায়। তড়িৎ উঠে মুখে পানি দিলে কিছুটা ধাতস্ত হয়। মোবাইলে সময় দেখে, টিউশনি যাবার সময় হয়ে গেছে।
আরো দু’টো টিউশনি যোগাড় করে নেয় সে। মাস্টার্সে ভর্তি হয়।
দেখতে দেখতে বছর ফুরিয়ে যায়। চাকরির চিন্তায় খুব ভালো ফল না হলেও মাস্টার্সটা সম্পন্ন হয় মানে মানে। বেশ কয়েকটা নিয়োগ পরীক্ষায় না টিকলেও এক্সিম ব্যাংকে টিকে যায় ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার পদে। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে ঘণ্টাখানেক নীরবে কেঁদেছে বাবর, আনন্দের কান্না। হৃদয়াকাশ আজ মেঘমুক্ত ফর্সা। দুর্যোগের ঘনঘটা নেই। বাবা মাকে নিয়ে আসে শহরে। বছর না ঘুরতেই পিতা আলী মুনসি ছেলেকে বিয়ে করানোর জন্য তোড়জোড় শুরু করেন। সাথে যোগ দেন ওর মাও। বাবর হ্যাঁ না কিছু বলে না। মনে মনে সেও চায় কেউ যেন বিয়ের কথাটা তোলে এবার।
আলী মুনসি মেয়ে দেখেন। পেয়েও যান। বাড়ি আনোয়ারা, শহরে থাকে। এবার অনার্স ফাইনাল দেবে। গায়ের রঙটা ছেড়ে দিলে বাদবাকি সব দারুণ! বাবা সরকারি বড় কর্তা। নাসিরাবাদ হাউজিং এ চার কাঠা ভূমির উপর ছয়তলা ভবন। দেখে শুনে আলী মুনসি এক পায়ে খাড়া। বাবরের মাকে নিয়ে দেখেও আসেন মেয়ে, মেয়ের ঘরবাড়ি। এক রেস্টুরেন্টে বাবরকেও দেখানো হয়। রঙটা মন্দা হলেও মনটা ভালো, কথা বলে নিশ্চিত হয় বাবর।
মেয়ের পরিবারও রাজি। বাবরের পরিবার এবার মেয়ের বাড়িতে যাবে। ফাইনাল কথা বলে নিশান দিয়ে আসবে। গাড়ি থেকে নামতেই এক লোক তাদের স্বাগত জানাতে এগিয়ে আসেন। আলী মুনসি ছেলেকে বলেন- ‘ইনিই মেয়ের বাবা।’ বাবর চোখ কচলে পুনরায় তাকায়। চোখ এবার কপালে উঠে যায়। বজ্রাহতের মতো থির হয়ে যায় সমস্ত শরীর। এ তো সেই লোক, চাকরির জন্য যিনি পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন বাবরের কাছ থেকে।
বাবর ওর বাবা-মাকে আর নামতে দেয় না গাড়ি থেকে। ড্রাইভারকে নির্দেশ দেয় বাসার দিকে যেতে। ‘যে মানুষ অসহায় মানুষের গলা কাটতে পারেন অবলীলায়, তার মেয়ে বিয়ে করার চেয়ে গলায় দড়ি দেওয়া ভালো।’ কি হলো হঠাৎ জানতে চাইলে বাবা-মাকে জবাব দেয় বাবর। আলী মুনসি পরিষ্কার কিছু বুঝতে পারেন না। বাবরের চেহারার দিকে তাকান, যেন জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।
অগত্যা কৌতূহল সংবরণ করতে হয়। নাগরিক সড়ক ধরে গাড়ি চলে খরগোশ গতিতে। ভেতরে সকলে নীরব। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সিডি ডিভাইসটা অন করা ছিলো, বেজে যায় মৃদু স্বরে গান- এ পথ যদি না শেষ হয় / তবে কেমন হতো তুমি বলো তো / যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয় / তবে কেমন হতো তুমি বলো তো…