শেষ হল উন্নয়ন মেলা

সেরা স্টল নির্বাচিত হলো কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়ন মেলায় সেরা স্টল নির্বাচিত হয়েছে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর। দ্বিতীয় স’ান অর্জন করেছে ‘পানি উন্নয়ন বোড’ ও তৃতীয় স’ান অর্জন করেছে ‘জেলা পরিষদ’। গতকাল বুধবার বিকালে মেলার শেষ দিনে প্রতিষ্ঠান ও স্টল প্রদানদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন।
এছাড়া উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে নগরীর আগ্রাবাদস’ হাতেখড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত কানা মাছি ভোঁ ভোঁ (বালক-বালিকা), মোরগ লড়াই (বালক-বালিকা) ও দড়ি লাফ (বালক-বালিকা) প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝেও পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা।
নগরীর এম.এ. আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত তিন দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ২০০৮ সালে তার নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কাছে ‘দিন বদলের সনদ’ ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বহুমুখী উন্নয়নমূলক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে শিক্ষা, স্বাস’্য, বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ, খাদ্য, সামরিক-বেসামরিক, তথ্য প্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন ও জনবান্ধবমুখী সেবা খাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন হয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাক্ষরতার হার ও মাথাপিছু আয়। প্রতি বছর ১ জানুয়ারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়া এ সরকারের অন্যতম সাফল্য। এক সময় বাংলাদেশে খাদ্য আমদানি করা হতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে কৃষকদের নানামুখী সুযোগ সুবিধা দেয়ায় আমরা বর্তমানে বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করছি। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুতের নাজুক পরিসি’তি ছিল। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষকদের সেচ যন্ত্র, কল-কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক মতো চলতো না। এখন দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
উন্নয়ন মেলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণী বিষয়গুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ মেলার আয়োজন। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযুগে অনুষ্ঠিত হওয়া উন্নয়ন মেলা সরকারের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ‘দিন বদলের সনদ’ বাস্তবায়ন সম্পর্কে জনগণ মেলায় এসে উন্নয়ন সম্পর্কে অবহিত হচ্ছে। মেলায় আগত সরকারি-বেসরকারি ৯৫টি প্রতিষ্ঠানের ১০৭টি স্টলে সরকারের সাফল্য ও অর্জন তুলে ধরা হয়েছে।’
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, ‘এদেশকে সুখী-সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলায় রূপান্তর করার জাতির জনকের যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন করতে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণসহ দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোর ব্যাপক উন্নয়ন, কর্ণফুলী নদীতে টানেল নির্মাণ, বেকার সমস্যা দূরীকরণে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা, এলএনজি টার্মিনাল ও মহেশখালীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তায়নসহ অসংখ্য মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ২০২১ সালের আগে এদেশ একটি মধ্যম আয়ে ও ২০৪১ সালের মধ্যে এ দেশ একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করবে। সরকারের বহুমুখী উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখাসহ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে দেশে আর কোনো ধরনের সমস্যা থাকবে না। কিন’ দেশবিরোধী একটি চক্র সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সকলের সম্মিলিত উদ্যোগে তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে।’ তিনি জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা রহমান বাঁধনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ ও উপ-পরিচারক (স’ানীয় সরকার) মো. খোরশেদ আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাসুকুর রহমান (সিকদার)।
এর আগে বিকাল ৩টায় মেলার মঞ্চে ‘এসডিজি বাস্তবায়নে সমস্যা ও সম্ভাবনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা’ বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপ-পরিচালক (স’ানীয় সরকার) মো. খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। আলোচক ছিলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলমগীর ও কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল হক চৌধুরী। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টায় মেলার মঞ্চে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন