রমজানে ট্রাফিক পুলিশ

সেবা দিয়েও গালমন্দের জীবন

শুভ্রজিৎ বড়ুয়া

প্রখর রোদ কিংবা ঝড়-তুফান, নেই কোন রাতদিন; রোজা রেখেও গায়ে-গতরে খাটতে হয় ট্রাফিক পুলিশকে। এ মাসে সবার কাজের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু তাদের পালন করতে হয় কঠোর দায়িত্ব। ধুলোবালি আর কালো ধোঁয়ার ভেতর রাস্তায় দাঁড়িয়ে অবিরাম বাঁশি ফুঁকে-ফুঁকে আর হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করতে হয় যানবাহন। একটু অন্যমনষ্ক হলেই থমকে যায় গাড়ির চাকা। লেগে যায় জট। আর সে জট থেকে কিংবা সিগন্যালে দাঁড়ানো গাড়িগুলো থেকে হর্নের সাথে-সাথে ভেসে আসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল। এসব শুনেও না শোনার ভান করে ছুটোছুটি করতে থাকে ট্রাফিক পুলিশ, যাতে সড়ককে জটমুক্ত রাখা যায়।
নগরীর লালখান বাজার থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, ইফতারের আগ মুহূর্তে গাড়ির চাপ প্রচণ্ড মাত্রায় বেড়ে যায়। ঠিক তখনই কোনো ক্লান্তি ছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করে ট্রাফিক পুলিশ। গতকাল টাইগারপাস এলাকা থেকে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট লরেন্স বলেন, ‘আমাদেরও লক্ষ্য থাকে ইফতারের আগে সবাইকে বাড়ি পৌঁছানোর। কিন্তু যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য যখন আমরা সিগন্যাল দেই, এক থেকে দেড় মিনিটের সিগন্যালে আটকে থাকা মানুষেরা আমাদের গালাগাল করে। কী আর করবো! আমাদের যা দায়িত্ব তা-ই পালন করি।’
তিনি বলেন, ‘লালখান বাজার থেকে বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত রাস্তাটি অপেক্ষাকৃত ভালো হওয়ায় তিনটি সড়কের গাড়ি এ সড়কে চলাচল করে। তাই অফিস শুরু ও
ছুটির সময়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। চলাচল করা গাড়ির তুলনায় রাস্তাটি ছোট। তার ওপর আমাদের লোকবলও কম। মাঝে-মাঝে আমাদের ডিসি স্যারও এ রাস্তায় ডিউটি করেন। তবু যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর কষ্ট হয়। তাই এ সড়কে আমরা রিকশা চলাচলে বাধা দিই। রিকশার ধীরগতি পুরো সড়কে অন্য গাড়িগুলোর গতি কমিয়ে দেয়।’
যানজট নিরসনে কর্মব্যস্ত ট্রাফিক পুলিশের ডিসি ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই না চট্টগ্রামের কোনো মানুষ ঠিক সময়ে বাড়ি পৌঁছাতে না পেরে রাস্তায় ইফতার করুক। আমরা ট্রাফিক বিভাগের সব সদস্য রাস্তাতেই ইফতার করি। আমরা রাস্তায় ইফতার করলে কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু সাধারণ জনগণ যেন রোজা রেখে রাস্তায় বিড়ম্বনার শিকার না হয়।’