সেপটিক ট্যাংকে প্রাণ গেল ৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরে সেপটিক ট্যাংকে পড়ে দুই ভাইসহ তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে খুলশী থানার ঝাউতলা ডিজেল কলোনি মসজিদ মাঠ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা মো. মিজানের ছেলে মো. সিফাত (১২), আফজাল হোসেনের দুই ছেলে ইমরান হোসেন ইমু (২৫) ও রুবেল হোসেন (১৮)। এর মধ্যে সিফাতের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সুধারাম এলাকায়। ইমরান ও রুবেল বিহারি বলে জানা গেছে।

তবে কি কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জাবেদ খান নামে ঘটনার এক প্রতক্ষদর্শী সুপ্রভাতকে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ এসে সেপটিক ট্যাংকে থাকা বৈদ্যুতিক লাইন কেটে দিয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার তিনজন বিদ্যুস্পৃষ্টে মারা গেছেন। জাবেদ খান ওই এলাকার জাকির হোসেন হাউজিং সোসাইটির মৃত জামাল খানের ছেলে।
তবে পুলিশের দাবি, সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খুলশী থানার এসআই শরীফুল আলম বলেন এ দাবি করেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেলে কলোনির মাঠে ফুটবল খেলছিল একদল তরুণ। সেসময় পার্শ্ববর্তী একটি সেপটিক ট্যাংকে বল পড়ে যায়। বলটি কুড়াতে গিয়ে ট্যাংকে পড়ে যায় সিফাত নামের এক শিশু। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে ট্যাংকে নামেন ইমরান ও রুবেল নামের দুই তরুণ। কিন’ তারা তিনজনই আর উঠছিল না। পরে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। এরপর স’ানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল আলম সুপ্রভাতকে বলেন, সিফাত নামে শিশুটি ট্যাংকে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে দুই ভাই ইমরান ও রুবেল রশি বেঁধে সেখানে নামে। এসময় তিনজনই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক সুপ্রভাতকে বলেন, খুলশী থানা এলাকা থেকে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত তিনজনকে শুক্রবার বিকেলে হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।