‘সেনারা আমাকে ছাড়লেও গলা কেটে দেয় সন্ত্রাসীরা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
Untitled-1

রোহিঙ্গা কিশোর গুরা মিয়া (১৫)। তিন ভাই-বোনের মধ্যে মেজো। সকালে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখতে পায়, তাদের ঘরে আগুন জ্বলছে। ওই মুহূর্তে আগুন থেকে বাঁচতে ঘর থেকে বের হলে পেছন থেকে বন্দুক তাক করে ধরে সেনাবাহিনী। সেনারা বলে, বাংলাদেশে পালিয়ে যা, নাহয় গুলি করে মেরে ফেলব।
গুরা মিয়া বলেন, ‘বেঁচে থাকার তাগিদে তারপর থেকে বাংলাদেশের দিকে হাঁটতে শুরু করি। সীমান্ত থেকে ৫০ মাইলে দুরে লব্বাইডালা এলাকায় মগ সন্ত্রাসীরা আমাকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। আমিসহ ১১ জন রোহিঙ্গাকে ওইসময় গলা কেটে দেয় তারা। বাকিরা মারা গেলেও কয়েকজন রোহিঙ্গা আমাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।’গুরা মিয়া মিয়ানমারের আকিয়াব রাজ্যের বুচিদং থানার মংনামা পাড়ার সৈয়দ হোসেনের ছেলে। দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গতকাল রাতে গুরা মিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখন তিনি হাসপাতালের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
গুরা মিয়াকে নিয়ে আসা আরেক রোহিঙ্গা জমির হোসেন বলেন, ‘বুচিদং থেকে আত্মীয়-স্বজন আসছে -এমন খবর পেয়ে সীমান্তে অবস’ান করি আমরা। এসময় কয়েকজন রোহিঙ্গা জানায়, মগ সন্ত্রাসীরা লব্বাইডালা এলাকায় রোহিঙ্গাদের গলা কেটে হত্যা করছে। খবর পেয়ে গিয়ে দেখি, সেখানে অনেকগুলো লাশ পড়ে আছে। তখনো নাড়াচাড়া করতে দেখে আমরা গুরা মিয়াকে ভারে করে নিয়ে আসি। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাকে উখিয়া হাসপাতাল, পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রামের হাসপাতালে পাঠান ডাক্তাররা।’
মা-বাবা ও দুই বোন কোথায় আছেন -জানে না গুরা মিয়া। নিজে বাঁচলেও তাদের জন্য চিন্তার অন্ত নেই তার। গুরা মিয়া বলেন, ‘মগ সন্ত্রাসীরা যখন আমাদের ওপর হামলা চালাই। তখন চারদিকে শোরগোল শুরু হয়। জীবন বাঁচাতে সবাই প্রাণপণে ছুটতে থাকে। এমন বিভীষিকার ভেতর দিয়ে মা-বাবা ও দুই বোন কোথায় হারিয়ে গেছে জানি না।’
২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শুরু হওয়া সহিংসতার জেরে এ পর্যন্ত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা ১৬৩ জন রোহিঙ্গা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস’ায় ৯ রোহিঙ্গা মারা গেছেন। সুস’ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন ৮২ জন রোহিঙ্গা।