খুলশিতে অসামাজিক কার্যকলাপ

সেই ‘মধুকুঞ্জ’ গুটিয়ে পালিয়ে গেল দুলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরের লায়ন্স হসপিটাল লেইনে ছয়তলা ভবনে গড়ে উঠা সেই ‘মধুকুঞ্জের’ মালিক কথিত দুলাল ‘পরিবার’ নিয়ে পালিয়েছে।
ভবনটির ব্যবস’াপক নাজিম উদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় সুপ্রভাতকে বলেন, দুলালের অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বাসা ছেড়ে পালিয়েছেন। চলতি মাসের শেষে বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা ছিল তার।
নাজিম উদ্দিন আরও জানান, ‘আস্তানা’ গুটিয়ে দুলাল কথিত পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশীরাও খুশি। এছাড়া ভবন মালিকও দুলালের অপকর্মের কারণে বদনাম থেকে মুক্ত হয়েছেন। তবে গত দুই-তিনদিন ধরে ভবনটি ঘিরে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ আগস্ট সুপ্রভাত বাংলাদেশ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ‘খুলশিতে দেদারছে চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সালেহ মো. তানভীর বলেন, ‘সুপ্রভাত পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমরা খুলশিসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের স্পটগুলো বন্ধে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি।’
এর আগে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়ার পরও লায়ন্স হসপিটাল লেইনের ওই ভবনের ডি-৩ ফ্ল্যাটে অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধের উদ্যোগ না নেয়ায় থানার ওসি নাছির উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রতিবেশী মো. আজিজ বলেন, ‘মাস শেষ হলে দিদার নামে থানার কথিত এক ক্যাশিয়ার টাকা নিতে আসেন। কিন’ ‘মধুকুঞ্জের’ হদিস পায় না পুলিশ।
অবশ্য খুলশি থানার ওসি নাছির উদ্দিনের ভাষ্য, ‘সিএমপিতে ক্যাশিয়ার নামে কোনো পদবি নেই। আর খুলশি থানায় দিদার নামে কোনো পুলিশ সদস্যও নেই। অভিজাত ফ্ল্যাট বাড়িতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলার অভিযোগ শুধু খুলশিতে নয়, এ অভিযোগ সর্বত্র। তবে এসব বন্ধে পুলিশের অবস’ান খুব কাঠোর। এ ধরনের অনেক স্পট আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। অনেককে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি।’
উল্লেখ্য, লায়ন্স হসপিটাল লেইনে ছয়তলা ভবনের তিনতলার (ডি/৩) ফ্ল্যাটে দুলাল নামে এক ব্যক্তি অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানা গড়ে তোলেন। তিন মাস আগে ‘পরিবার’ নিয়ে থাকার কথা বলে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন দুলাল। ওই ফ্ল্যাটে প্রায় প্রতিদিন আসত সুন্দরী তরুণী। তিন-চার দিন থাকার পর চলে যেত তারা। আবার আসত নতুন ‘অতিথি’।