গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে যুবক হত্যা মামলা

সেই বাস চালক দিদার গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরের আকবর শাহ থানা এলাকায় হেলপার ও চালকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বাস থেকে ফেলে যাত্রী রেজাউল করিম রনিকে (৩৩) হত্যার ঘটনায় সেই বাস চালক মোহাম্মদ দিদারকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার বালুতোবা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দিদার সন্দ্বীপ উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকার মোহাম্মদ ইয়াছিনের ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল মঙ্গলবার বিকালে আদালতে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পিবিআই পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ কুমার চাকমা সুপ্রভাতকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ওই বাসের হেলপার মানিক সরকারকে (২৬) লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মানিক সরকার নগরের আকবর শাহ থানার ফিরোজ শাহ কৈবল্যধাম আবাসিক এলাকার মোস্তাক সরকারের ছেলে। বাস থেকে ফেলে দিয়ে রনিকে হত্যার দায় স্বীকার করে গত ৬ সেপ্টেম্বর মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মানিক।
গত ২৭ আগস্ট দুপুরে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে আকবর শাহ থানার কালীরহাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রেজাউল করিম রনিকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে চাকায় পিষ্ট হয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রনির মামা আবদুর রহমান বাদি হয়ে আকবর শাহ থানায় বাস চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, ঘটনার দিন দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তাজিল পরিবহন ও বক্কর পরিবহন নামে দুটি বাস একটি আরেকটিকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতা করছিল। এসময় পেছনে থাকা তাজিল পরিবহনের বাসের যাত্রী ছিলেন রেজাউল করিম রনি। বাস দুটি সিটি গেট এলাকায় থামার পর তাজিল পরিবহন থেকে নেমে বক্কর পরিবহনের বাসে উঠে পড়েন রনি। এসময় বক্কর পরিবহনের হেলপার মানিকের কাছে ওভারটেক করার সুযোগ না দেয়ার কারণ জানতে চান রনি। এসময় বাসটির মূল চালক দিদার সিটে বসা ছিলেন। বাসটি চালাচ্ছিলেন দিদারের আরেক সহযোগী সাদেকুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে রনিকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেন মানিক ও দিদার। এসময় সাদেকুল বাসটি চালানো শুরু করলে পেছনের চাকায় চাপা পিষ্ট হয়ে ঘটনাস’লেই মারা যান রনি। সাদেকুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র এ কর্মকর্তা।