সূর্য সেনকে নির্যাতন করায় ব্রিটিশদের ক্ষমা চাইতে বলবেন বাদল

সুপ্রভাত ডেস্ক

পাঁচাশি বছর আগে চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের নেতা বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্য সেনকে ফাঁসি দেওয়ার আগে নির্যাতন করায় ব্রিটিশদের ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য মইনুদ্দিন খান বাদল।
এই দাবি তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পাশাপাশি ইংরেজ সরকারের কাছে চিঠিও লিখবেন বলে জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে নগরীর জে এম সেন হলে বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত মাস্টারদা সূর্য সেনের ফাঁসি দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাংসদ ও বাংলাদেশের জাসদের নেতা বাদল বলেন, ‘এ অনুষ্ঠান থেকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ, যারা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র শেখায়, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- এই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীর শেষ দিনগুলোর বিবরণ আমাদের জানানো হোক।
‘যদি তার মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়, কোথায়? এটা আপনাদের বলতে হবে। সেই রেকর্ড আমরা পেতে চাই, দেখতে চাই। আর যদি বলেন সমুদ্রে ফেলা হয়েছে। সেটাও পরিষ্কারভাবে বলতে হবে।’
বাদল বলেন, ‘এটাও জানতে চাই, তথাকথিত সভ্য ব্রিটিশদের কাছে- সূর্য সেনকে জীবিত না মৃত অবস’ায় ফাঁসিতে তোলা হেয়েছে। একইভাবে জানতে চাই, ফাঁসির আগে তাকে জঘন্যরকম অত্যাচার করেছেন। এটা পৃথিবীর কোন আইনে করেছেন? এজন্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাই। এই ব্যাখ্যাগুলো আমরা জানতে চাই। এ বিষয়টা আমি পার্লামেন্টে আমি তুলব।’ ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি মধ্যরাতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সূর্য সেন ও বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ফাঁসির আগে দুইজনকেই নির্যাতন করার বিবরণ এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইতিহাস বইয়ে লিপিবদ্ধ আছে। সূর্য সেনের মরদেহ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরের মাঝামাঝি অংশে নিমজ্জিত করা হয় বলেও দাবি করা হয়ে থাকে।
সাংসদ বাদল বলেন, ‘এইখানে এই জেএম সেন হলে বিপ্লবীদের আবক্ষ মূর্তি যেখানে আছে, সেটা পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেব। তারকেশ্বর দস্তিদারের আবক্ষ ভাস্কর্য নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ দেব।
‘এই ভাস্কর্যগুলো যে আছে, এর পেছনের দেয়ালে টেরাকোটায় ইতিহাস ধরে রাখার ব্যবস’া করুন। আর যেটা প্রয়োজন তা হলো বিপ্লবীদের জন্য একটা মিউজিয়াম করা।’
বিপ্লবীদের স্মৃতি সংরক্ষণে জাদুঘর নির্মাণে নগরীতে জমি পাওয়া না গেলে বোয়ালখালীতে জমির ব্যবস’া করারও আশ্বাস দেন বাদল।
তিনি বলেন, ‘একটা অপরাধবোধ কাজ করে এই বিশাল মানুষদের জন্য, আমরা কিছু করতে পারিনি। যারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে গেছেন তাদের জন্য কারও কাছে কিছু চাওয়ার নেই। মিউজিয়ামের টাকা যোগাড়ের জন্য প্রয়োজনে গলায় গামছা বেঁধে ভিক্ষা করব। যারা এসব স্মৃতি ধরে রাখতে পারে না, তারা দেশের জন্য আর কী করবে?’
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সূর্যসেন ব্রিগেড করারও দাবি জানান মাঈনুদ্দিন খান বাদল। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবের ডাক দেন মাস্টারদা সূর্য সেন। ভারতীয় প্রজাতান্ত্রিক বাহিনী, চট্টগ্রাম শাখা গঠন করে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের। তার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমন, জালালাবাদ যুদ্ধ হয়।
১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ইংরেজ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন সূর্যসেন। বিচারে সূর্যসেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়।
বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের অর্থ সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সম্মান জানাতে গেলে সিনিয়র জেল সুপার কামাল হোসেন সেখানে তারকেশ্বর দস্তিদারের স্মৃতি সংরক্ষণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে সকালে জেএমসেন হলে সূর্যসেনের আবক্ষ মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রিক দল (বাসদ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, কৃষকের সন্তান পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।