খেলোয়াড় নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব করবে আগ্রাবাদ নওজোয়ান ক্লাব

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক
Untitled-1

১৯৫১ সালে শুরু হয় আগ্রাবাদ নওজোয়ান ক্লাবের পথচলা। একে একে অতিক্রম করেছে ৬৬ বছর।
এবার ক্লাবটি সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে মিলনমেলার আয়োজন করতে চলেছে। এখনো পর্যন্ত বর্ষপূর্তিতে কোনো ধরনের বড় ধরনের উদযাপন করেনি তারা। তাই সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার উদ্যোগে নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এজন্য গতকাল থেকে শুরু হয়েছে খেলোয়াড়দের নিবন্ধন কার্যক্রম।
বয়স ৬৬ বছর হলেও ৫০ বছর পূর্তি শিরোনামে অনুষ্ঠান আয়োজন করবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন আগ্রাবাদ নওজোয়ান ক্লাব।
এ উপলক্ষে গতকাল নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলার ও আয়কর বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশিদ পিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সভাপতি মোজাম্মেল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, ইবাদুল হক লুলু, সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ইসমাইল কুতুবী, ক্লাবের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদ দুলাল।
এ সময় উপস্থিত সাবেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় দেন।
বক্তারা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, আগ্রাবাদ নওজোয়ান ক্লাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে মেধা ছিল। তারা এখন সরকারি বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন। এ ক্লাবের সদস্য হিসেবে আমরা গর্বিত।
সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শুরু থেকে এ ক্লাবের সাথে আমি জড়িত। অনেক খেলোয়াড় গড়েছি এখান থেকে। কিন্তু মাঠের অভাবে বর্তমানে তেমন খেলোয়াড় উঠে আসছে না। আমাদের খেলার কোনো মাঠ নেই। আমাদের ছেলেমেয়েরা অনুশীলন করতে পারে না। যার ফলে বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আমাদের অনেক খেলোয়াড় জাম্বুরী মাঠে খেলেছে, অনুশীলন করেছে। আর এখন সেই মাঠটিও নেই।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এক সময় সভাপতি হিসেবে আমি ক্লাবের দায়িত নিই। কষ্ট করে হলেও এ ক্লাবটিকে আগলে রেখেছি। কারো কাছ থেকে ক্লাব চালানোর জন্য চাঁদা নেইনি। এমনও সময় গিয়েছে আমরা নারায়ণগঞ্জ থেকে খেলোয়াড় আমাদের মাঠে নামাতে হয়েছে।’
‘আমাদের এখন অনুশীলনের জায়গা নেই। সকল মাঠ বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মেলায় মাসের পর মাস বদ্ধ থাকে। আমি আমার নিজের দুই নাতি-নাতনিকে পর্যন্ত মাঠ দেখাতে পারি না। তাদের নিয়ে যেতে হয় হালিশহর শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে। জাম্বুরী মাঠের পাশ দিয়ে যখন যাই তখন খুব খারাপ লাগে। কত স্মৃতি আছে এ মাঠে আমাদের।’
এছাড়া ক্লাবের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য বক্তারা ক্যাপ্টেন মফজল আহমদের কথা স্মরণ করেন।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বড় পরিসরে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়।