সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু ১ উদ্বোধন

0
137

খাগড়াছড়িতে জ্যেষ্ঠ পররাষ্ট্র সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি ::
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু ১ চালুর কথা ভাবছে সরকার। ভারতের সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে সম্মতি মিললে ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খাগড়াছড়ির রামগড়ের ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মাসুদ বিন মোমেন।
শুক্রবার দুপুরে খাগড়াছড়ির রামগড়ের মহামুনি এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ এর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
মাসুদ বিন মোমেন আরও জানান, তিস্তা চুক্তিসহ ৬টি নদীর পানি চুক্তি নিয়ে অমীমাংসিত বিষয়ে ১৬ মার্চ দু’দেশের পানি সম্পদ সচিব পর্যায়ে বৈঠকে আলোচনার কথা রয়েছে। তিস্তা চুক্তির মতো অন্যান্য নদী চুক্তি যেনো বাধাগ্রস্ত না হয় সে দিকে জোর দেয়া হবে এবার বৈঠকে।
তিনি আরো বলেন, সেতুটি উদ্বোধন হলেও সেতুর কার্যক্রমে আরো আনুষ্ঠানিকতা রয়ে গেছে। সেতুটির ফলে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে অনেক অগ্রগতি সৃষ্টি হবে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সাথে আলোচনা হয়েছে। ১৬ মার্চ ভারতের পানি সম্পদ সচিবের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে এরপরেই দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রীদের বৈঠক হবে। আমরা আশাবাদী বৈঠকগুলি হলেই তিস্তাসহ ৬টি নদীর ব্যাপারে একটা অগ্রগতি হবে।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদীন ও সশস্ত্র বিভাগের গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আতিকুর রহমান, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন, রামগড় জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল মাযহারসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েস অ্যান্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তানিশ চন্দ্র আগারভাগ ইনপাকন প্রাইভেট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে ৮২.৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রামগড়ের মহামুনিতে ২৮৬ একর জমির ওপর ৪১২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৪.৮০ মিটার প্রস্থের আন্তর্জাতিক মানের মৈত্রী সেতুটি গত ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘ ৩ বছর পর গত জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শেষ করে। ২০১৫ সালের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ নামে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির শিলান্যাস করেন।