পলওয়েল পার্ক

সুপ্রভাত পরিবারের মিলনমেলা

হাফিজ রশিদ খান ও রুমন ভট্টাচার্য্য

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরা পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা রাঙামাটি। কাপ্তাই লেকের বুকে ভেসে থাকা এই জেলা শহর আর আশপাশে রয়েছে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় ও দৃষ্টিনন্দন স’ান।  এর মধ্যে অন্যতম একটি হলো পলওয়েল পার্ক। দৃষ্টিনন্দন এই পার্কে দিনভর আনন্দে মেতেছিল সুপ্রভাত পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ছিল সেই আনন্দময় দিনটি। সকাল ৭টা হতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ধীরে ধীরে এক এক করে জড়ো হতে থাকে সুপ্রভাত পরিবারের সদস্যরা। এর আগেই অপেড়্গমান ছিল বাস। ঘড়ির কাটা যখন সাড়ে ৮টা ঘরে তখন সেই গনত্মব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরম্ন হল।

এর আগে সুপ্রভাতের প্রধান প্রতিবেদক নজরম্নল ভাই গতবারের মত এবার পিকনিকে অংশ নিতে না পারলেও তার আনত্মরিকতার কমতি ছিল না। সাত সকালেই হাজির হয়ে খোঁজখবর নিলেন সকলের।

চলতে চলতে গাড়িতে গান, হাসি-ঠাট্টা এবং লাইভ ও সেলফি কোনোকিছুই বাদ যায়নি। চলছে গাড়ি, ঘড়ির কাটা যখন ১০টার ঘরে তখন অমিত ও তাওসিফ এক এক করে সবার হাতে তুলে দেয় টিফিনের প্যাকেট। এরপর বিরতিহীন প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে পৌঁছালাম সেই কাঙিড়্গত গনত্মব্য পলওয়েল পার্কে। যাওয়ার পথে আঁকাবাকা পথ, দু’পাশে পাহাড়, গাছের সারি সবকিছুই যেন মন ছুঁয়ে গেল। গাড়ি থেকে নেমে সবার জন্য টিকিট কাটা হলো। প্রবেশ্য মূল্য ৩০টাকা। বাংলাদেশ জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা দৃষ্টিনন্দন পলওয়েল পার্কটি এককথায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার এক অপূর্ব মিশেল। সুপ্রভাত পরিবারের সব সদস্যই উপভোগ করে ছবি ও সেলফিতে ব্যসত্ম সময় পার করেছে পার্কে ঢুকার পর থেকে।

ঘোরাঘুরি শেষে ক্লানত্ম শরীরে দুপুর ২টায় সবাই এসে হাজির খাবারের  টেবিলে। সাদা ভাত, সবজি, চাপিলা মাছ ফ্রাই, দেশি মুরগির রোস্ট, মুগডালসহ ছিল নানা পদের আইটেম। খাবারের টেবিলে সার্বিক তদারকি করেছেন পার্কের ইনচার্জ এসআই মিজান। তার আনত্মরিকতার কমতি ছিল না। এর আগে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন ওসি (ডিবি) হুমায়ুন কবির।

খাবার শেষে একটু বিশ্রামের পর চললো পূর্বঘোষিত নৌকা ভ্রমণ। প্রায় ১ ঘণ্টা লাগল এপার ও ওপার ঘুরে আসতে। নৌকা ভ্রমণে সবার মনে আনন্দের পাশপাশি ছিল ভয়ও।

এবারের চড়-ইভাতির তিনটি বাড়তি বিষয় নজরে এলো। সপত্নীক সম্পাদক রম্নশো মাহমুদ, সপত্নীক ও ছেলেমেয়েসহ এজেডএম হায়দার আর আমাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী মাছুম আহমেদের অংশগ্রহণ। এছাড়া গতবারের মত এবারও জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক ইব্রাহিম ভাইও ছিলেন অভিভাবক হিসেবে ছায়া হয়ে। খাওয়ার আগে স্পটে সুপ্রভাতের রাঙামাটির নিজস্ব প্রতিবেদক ফজলে এলাহীর আবির্ভাব। বলা যায়, নেপথ্যে যে তরম্নণেরা ওই চড়ুইভাতি সার্থক করে তুলেছে, তাদেরই একজন ফজলে। এদিকে ওই কা-ের কুশীলবদের মধ্যে ছিল কাঁকন দেব, দেবজ্যোতি চক্রবর্তী দেবু ও নাছরিন কাওছার। ওরা তো নানাভাবে আর ভঙ্গিতে সবাইকে আগ্রহী করে তুলেছিল।

ওখানেই আমরা পেলাম দুই আদিবাসী চাকমাবন্ধু ইন্টুমনি তালুকদার ও আশাধন চাকমাকে। এই দুই আদিবাসীবন্ধুকে পেয়ে আমি, আজিজুল কদির আর আবদুল আলী অনির্ধারিত আড্ডায় মেতে উঠলাম ওই পার্কেই। আজিজুল কদির তো আশাধনের ছোটখাটো একটা সাড়্গাৎকারই নিল মনে হলো।

ওই আড্ডায় মুখ ফসকে আমি বলে ফেললাম, পলওয়েল তো ব্রিটিশ-ভারতের এক ইংরেজ ডিসির নাম। এই পার্কের নাম কি রাঙামাটি শহরের কোনো ত্যাগী সমাজ বা রাজনৈতিক নেতা বা কবি-সাহিত্যিকের নামে হতে পারে না!

সবশেষে মজার ব্যাপারটি হলো, ফেরার পথে বাসে আমি ‘আনলাকি ১৩’ হয়েও প্রথম পুরস্কার পেলাম তৃষ্ণিকা বড়ুয়ার ছোট্ট মেয়েটার হাতের স্পর্শে।

অবশেষে বিকেল ৪টার দিকে শুরম্ন হলো ফেরার প্রস’তি। পার্ক থেকে বের হয়েই বাসের উদ্দেশে যাত্রা। বিকাল ৫টায় ছাড়ল বাস। আসার পথে বাসের ভেতরে অনুষ্ঠিত হলো কাঙিড়্গত লটারির ড্র। এর আগে সবার হাতে তুলে দেওয়া হলো কমলা ও বিস্কুট। সুপ্রভাত পরিবারের সবাইকে দেওয়া হলো শুভেচ্ছা উপহার।

বছর বছর বিজয়ের এই আনন্দময় দিনে আসবে সুপ্রভাত পরিবারের মিলমেলার দিনটি- এই কামনা ও প্রত্যাশায়।

জয়তু সুপ্রভাত পরিবার।