সুন্দর অনুভূতি জাগ্রত করতে আবৃত্তি একটি কার্যকর শিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমাদের দেশের অধিকাংশ পাঠক কবিতা পড়তে পারেন না বা বোঝেন না। এ কাজটা আবৃত্তিকাররা সহজতর করে তুলেছেন। আবৃত্তিচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হচ্ছে, এটি আশার কথা।
গতকাল টিআইসি মিলনায়তনে ক্বণন শুদ্ধতম আবৃত্তি অঙ্গনের ৩৩ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন কথাগুলো বলেন।
ক্বণন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোসতাক খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী এবং ভারতের খ্যাতিমান কবি সুবোধ সরকার। অতিথি আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে উপসি’ত ছিলেন ভারতের সুতপা বন্দোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্বণন কার্যকরী পরিষদ সদস্য আবৃত্তিশিল্পী সৌভিক চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আ. জ. ম. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আরো খাঁটিভাবে সংস্কৃতি-বান্ধব নগরীতে পরিণত করা হবে। এ ব্যাপারে আমার পড়্গ থেকে যা কিছু করা প্রয়োজন আমি তাই করবো। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, আবৃত্তি শিল্পই এখন শুদ্ধতার চাষাবাদ করে যাচ্ছে। মানুষের সুন্দর অনুভূতি জাগ্রত করতে আবৃত্তি একটি কার্যকর শিল্প।
ভারতের খ্যাতিমান কবি সুবোধ সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি আবৃত্তি সংগঠন তেত্রিশ বছর টিকে থাকার এমন নজির ভারতে নেই। এটাই বাংলা ভাষার ঐতিহ্য। বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে এখানকার মানুষের জন্য। ক্বণন তেত্রিশ বছর ধরে যে কাজটা করে যাচ্ছে, সেভাবে অসংখ্য ক্বণন যদি বাংলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তবেই বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে।
আলোচনা পর্ব শেষে আবৃত্তি প্রশিড়্গক মোসতাক খন্দকারের গ্রন’না ও নির্দেশনায় ‘বুকের স্বপ্ন বাজাও এবার জাগরণের রবে’ শীর্ষক বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।
এতে অংশগ্রহণ করেন ক্বণন সদস্য রাশেদ, তৃষা, শরীফ, ওয়াসিম, সাইমুম, পূজো, মার্টিনা, প্রিয়াঙ্কা, আকমল ও মুহতারিমা।
ক্বণন সদস্যদের মধ্যে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন সৌভিক চৌধুরী, রাশেদ মোহাম্মদ, ইমরানুল হক, তৃষা সেন, শরীফ মাহমুদ, জুনায়েদ সাউকি, মোহাম্মদ ওয়াসিম ও পূজয়িতা দত্ত। এরপর আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভারতের জনপ্রিয় আবৃত্তি শিল্পী সুতপা বন্দোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে কবি আসাদ চৌধুরী, কবি সুবোধ সরকার এবং আবৃত্তি শিল্পী সুতপা বন্দোপাধ্যায়কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা তুলে দেন ক্বণন সভাপতি মোসতাক খন্দকার।