সুন্দরীর ফাঁদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুন্দরী তরুণী। বাক্যবিলাসেও সাবলীল। গায়ে দামি পোশাক। হাতেও দামি মোবাইল। হাঁটা-চলায় যেন এক পরী। তার কথার জাদুতে মুগ্ধ হন সবাই। প্রেমের ফাঁদ পেতে ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিকে তার বাসায় ডেকে নেন। এরপর এ ‘পরীই’ পুরুষ সহযোগী নিয়ে তার সঙ্গে অশ্লীল ছবি তুলে ফাঁসিয়ে দেন। বিকাশে আদায় করে নেন লাখ টাকা।
দীর্ঘদিন থেকে নগরে এভাবে প্রতারণা করে চলেছে নারী প্রতারকদের একটি চক্র। গতকাল দুপুরে ডবলমুরিং থানার বেপারিপাড়া এলাকা থেকে রওশন আক্তার নামে এ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার রওশন গত মাসে হালিশহর এলাকার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম হাউসে ভুয়া তথ্য দিয়ে চাুকরির আবেদন করেন। এরপর নানা কৌশলে ফার্ম হাউসটির ব্যবস’াপনা পরিচালকের মোবাইল ফোন নম্বর জোগাড় করেন। ব্ল্যাকমেইল করতে মোবাইল ফোনের পাশাপাশি ফেসবুকও বেছে নেন রওশন। ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচারে নিজের সুন্দর ছবি দিয়ে এমডির কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান রওশন। কথা চলতে থাকে। ভাব-সাবও জমতে থাকে। চলে প্রেমের অভিনয়ও।
মা-বাবার সাথে দেখা করার কথা বলে এমডিকে গত ২৩ জানুয়ারি বেলা দুইটার দিকে বেপারিপাড়ার বাসায় নিয়ে যান রওশন। গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি প্রার্থী, তাই রওশনের ভালোমন্দ জেনে নিয়োগ দিতে হবে। এ চিন্তা থেকে রওশনের পাতা ফাঁদে পা দেন এমডি।
রওশনের বাসায় ঢোকার কিছুক্ষণ পর তার সহযোগী তিন যুবক দরজা বন্ধ করে দেন। এমডিকে মারধর করে মোবাইল, টাকা ছিনিয়ে নেন তারা। এরপর এমডির পাশে বসিয়ে রওশনের নগ্ন ছবি-ভিডিও করেন সহযোগী রনি। এরপর এমডির কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।
টাকা না দিলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ টাকা তাদের এনে দেন এমডি। আরও এক লাখ না দিলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে এমডিকে ছেড়ে দেন তারা।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) শহীদুল্লাহ জানান, প্রতারণার শিকার ব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে ডিবি। এডিসি (উত্তর) আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি টিম মঙ্গলবার বেপারিপাড়ার একটি বাসা থেকে প্রতারক রওশন আক্তারকে গ্রেফতার করে।
স্বীকারোক্তি মতে রওশনের সহযোগী রনিসহ ৪ জনকে আসামি করে ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা করা হয়। রওশনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে মঙ্গলবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সহযোগী রনিসহ এ চক্রের আরও তিন সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানান উপকমিশনার শহীদুল্লাহ।