সুদের হার না কমালে কর ছাড় পাবে না ব্যাংক : এনবিআর

সুপ্রভাত ডেস্ক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক খাতে করপোরেট কর কমানোর যে প্রস্তাব করা হয়েছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কম সুদে ঋণ না দিলে সেই সুবিধা তারা পাবে না। গতকাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এমসিসিআই) এক সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হয়ে এসে এ কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, ‘ব্যাংকগুলো লাকি যে তাদের কর হার কমানো হয়েছে। তবে লেন্ডিং রেট ঠিক না রাখলে ব্যাংকগুলো এই বেনিফিট পাবে না।’
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব উপস’াপন করেছেন, সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতেই এমসিসিআই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
অর্থমন্ত্রী এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট ট্যাক্স বিদ্যমান ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রস্তাব করেছেন। আর
অনিবন্ধিত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট ট্যাক্স বিদ্যমান ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছেন।
তার এ প্রস্তাবের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে। সিপিডি বলেছে, ব্যাংক খাতের বিদ্যমান ‘নৈরাজ্যের’ সমাধান না করে এ ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিৎ হবে না। আর টিআইবি একে বলছে ‘অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক’।
ব্যাংকের সুদ হারের সঙ্গে তাদের করপোরেট করের হার সরকার কীভাবে সমন্বয় করবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা দেননি এনবিআর চেয়ারম্যান।
এমসিসিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে সুদের হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।’
গত বুধবার বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভার পর সংগঠনের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যেসব ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস’া নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গত ১৪ এপ্রিল বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে (সিঙ্গেল ডিজিট) নামিয়ে আনতে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদে ঋণ বিতরণ করছে। আর আমানত সংগ্রহ করছে ৮ থেকে ১১ শতাংশ সুদে।