সুজি, সার, হলুদ মিশিয়ে নামি-দামি ঘি!

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাটহাজারী

পামওয়েল, সুজি, সার, হলুদ ও রং জাতীয় মারাত্মক ক্ষতিকারক ফ্লেভার দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল ও নকল ঘি। বিভিন্ন নামি-দামি বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে ভেজাল ঘিগুলো বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলোর পেছনে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ভেজাল ঘি বাজারে সরবরাহ করার জন্য কিছু বাবুর্চি ও একটি চক্র জড়িত বলে জানায় প্রশাসন। এসব ঘি খাওয়া হলে মানবদেহে মারাত্মক রোগসহ মৃত্যু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার দুই দফা অভিযানে হাটহাজারী পৌর এলাকার ১১ মাইলের কবির চেয়ারম্যান বাড়ির ভাড়া বাসায় এসব অবৈধ, ভেজাল ও নকল ঘি কারখানার সন্ধান পায় উপজেলা প্রশাসন। এসময় দুই দফায় ২৭ শ লিটার নকল ও ভেজাল ঘি ধ্বংস করাসহ ঘি তৈরির বিভিন্ন উপকরণ এবং সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তবে দুই অভিযানে এ সবের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।
জানা গেছে, শীত মৌসুম আসলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মেজবানের হিড়িক পড়ে । এর সাথে সাথে একটি সিন্ডিকেট বিভিন্ন ভেজাল

ও ক্ষতিকারক দ্রব্য দিয়ে এসব নকল ও ভেজাল ঘি তৈরি করে। এগুলো বাজারে সরবরাহ করার জন্য তাদের নিয়োগকৃত কিছু বাবুর্চি থাকে। এসব ঘি তৈরি করার জন্য তারা বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাসা ভাড়া নিয়ে বিশেষ কৌশলে এসব ঘি তৈরি করছে। বিভিন্ন কোম্পানির নাম ব্যবহার করে রং, সুজি, সার, পামওয়েল, সোডা ও ফ্লেভার দিয়ে তৈরী করা হয় এসব। এ পর্যন্ত ৫/৬টি ব্র্যান্ডের নাম পাওয়া গেছে। যেগুলোর নাম দিয়ে বাজারের বিভিন্ন ছোট-বড় মুদির দোকানে সরবরাহ করা হয়েছে এসব ঘি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাজারের বিভিন্ন মুদির দোকানে ওই সব ভেজাল ও নকল ঘি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
তবে তথ্য বলছে, তৈরি এসব ভেজাল ও নকল ঘি দেশের নাম করা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তারা এই ব্যবসা করছে। শুধু হাটহাজারী উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন হাটবাজারে নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ছোট-বড় মুদির দোকানসহ নামি-দামি অনেক দোকানে পাওয়া যাচ্ছে এসব ঘি। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে তাদের এসব ভেজলা ঘি এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শীত মৌসুম ও পবিত্র রোজা আসলে এসব ঘি এর চাহিদা বেড়ে যায়। এগুলো বিভিন্ন মেজবান, অনুষ্ঠান ও মুদির দোকানে সরবরাহ করার পেছনে রয়েছে কিছু বার্বুচিসহ একটি চক্র।
এসব ভেজাল ঘি মানবদেহের জন্য ভয়ঙ্কর বলে বলছেন হাটহাজারী উপজেলা স্বাস’্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সৈয়দ মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন। তিনি সুপ্রভাতকে বলেন, এসব ভেজাল ঘি মানবদেহের জন্য মারাত্মক হুমকি। এই ঘি খাওয়া হলে মানুষের কিডনি, লিভার, অকেজো হওয়াসহ শরীরে ক্যান্সার হতে পারে। এগুলো বন্ধের জন্য প্রশাসনের আরো কঠোর তদারকি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এ ব্যাপারে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রুহুল আমিন সুপ্রভাতকে বলেন, অবৈধ, ভেজাল ও নকল ঘিসহ বিভিন্ন ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অভিযান চালাচ্ছি। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার দুই দফা অভিযানে ২৭ শ লিটার ভেজাল ও নকল ঘি ধ্বংস করেছি এবং ঘি তৈরি অনেক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। যেসব আবাসিক এলাকায় বাসা ভাড়ায় নিয়ে যারা এগুলো করছে তাদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ওই সব বাড়ির মালিকদের কয়েক দিনের মধ্যে চিঠি দেওয়া হবে। জব্দকৃত ভেজাল ও নকল ঘি তৈরীর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণগুলো ধ্বংস করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।