সুখি-সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল শহীদদের

প্রফেসর ডা. এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম

মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া হাজারো মুক্তিযোদ্ধা এবং জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন ছিল সুখি সুন্দর বাংলাদেশের। দেশবাসীর বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক অধিকারগুলির প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সমৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলো আমাদের দেশের ছাত্র যুবক-কৃষক শ্রমিক নারীসহ অগণিত মুক্তিযোদ্ধা।
কেবল বৈষয়িক সমৃদ্ধির অনুসন্ধান নয় বরং দেশের ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি, জাতি-ধর্ম-বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে বহুমাত্রিক সংস্কৃতি সাধনায় ঋদ্ধ হবে স্বাধীন বাংলাদেশের সমাজ, শিশু-কিশোর তরুণরা বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবমৈত্রীর চেতনায় বিকশিত হবে-এসব মানবিক, কল্যাণমুখি সমাজ নির্মাণ ছিলো মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক দলিল। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও আমাদের এই স্বপ্নগুলো আলোর মুখ দেখেনি। দারিদ্র্য, বঞ্চনা, কুসংস্কার ও হাজারো অন্যায়-অবিচার-অসংগতির বেড়াজাল থেকে জাতি মুক্ত হতে পারছে না। দীর্ঘসময় ধরে সামরিক-স্বৈরাচার গোষ্ঠী দেশ শাসন করেছে। এমনকি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিগুলিও জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। বাংলাদেশবিরোধী নানা অপশক্তি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-বাঙালির ঐতিহ্য-সংস্কৃতির গৌরব মুছে ফেলতে চেয়েছে। বাঙালির জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা এবং বহুমাত্রিক সামাজিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বিশ্বাসী নয় এমন রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় ছিলো দীর্ঘদিন। তাদের আমলে প্রশাসন ও সমাজের পাকিস্তানিকরণ হয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের পশ্চাদগতি হয়েছে। এ থেকে উত্তরণ নির্ভর করে গণজাগরণের ওপর।
বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতি উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশের উদভাসন ঘটছে নানাভাবে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের অগণিত শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সমাজ প্রগতির শক্তির ঐক্যবদ্ধ মহাজাগরণ চাই। আমাদের শিশু-কিশোর-তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক চেতনা সঞ্চারিত করে তাদের উপযুক্ত করে তুলতে হবে দেশ গড়ার মহাকর্মযজ্ঞে। স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত ৪ মূলনীতিই হবে আমাদের দেশ-সমাজ রাষ্ট্র-গঠনের ম্যাগনাকার্টা।
লেখক : সভাপতি, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটি
ও সভাপতি, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রাম।