৯ পয়েন্টে স্থলমাইন

সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশিসহ নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণের পৃথক ঘটনায় একজন বাংলাদেশিসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। গতকাল রাত ৮টায় নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা মিয়ানমার সীমান্তে একজন বাংলাদেশি এবং সোমবার রাতে জামছড়ির গর্জনতলী সীমান্তে রোহিঙ্গা যুবক মাইন বিস্ফোরণে মারা গেছেন।
জানা যায়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের জিরো লাইনে অন্তত ৯টি পয়েন্টে স্থলমাইন স্থাপন করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জামছড়ির গর্জনতলী সীমান্তের ৪৬ নম্বর পিলারের কাছে গত সোমবার রাতে সাড়ে এগারোটার দিকে বিকট শব্দে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় মাইন বিস্ফোরণে মোস্তাক আহম্মদ (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নুর আয়েশা (২২) মারাত্মক আহত হন। অন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীরা লাশ উদ্ধার করে রাতেই গর্জনতলী সীমান্তে নিহত যুবককে দাফন করেন। আর নুর আয়েশাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরণার্থীরা।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী একটি পরিবারের চার সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশের সময় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুুুুুুুুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণ হয়। এতে এক যুবকের মৃত্যু হয় এবং তার স্ত্রী আহত হয়।
এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা সীমান্তের জিরো লাইনে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তার নাম হাসিম উল্লাহ (৪৮)। তিনি চাকঢালার আদর্শ গ্রামের বাসিন্দার আব্দুচ সালামের পুত্র। গতকাল মঙ্গলবার রাত আটটায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরওয়ার কামাল।
স্থানীয়রা জানায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা মিয়ানমার সীমান্তের ৪৬ নম্বর সীমানা পিলারের কাছে জিরো লাইনে পালিত গরু খুঁজতে গিয়ে যান হাসিম উল্লাহ (৪৮)। এসময় বিকট শব্দে স্থলমাইন বিস্ফোরণ হয়ে বাংলাদেশী নাগরিক হাসিম উল্লাহর মৃত্যু হয়। তার লাশ সীমান্তের জিরো লাইনে পড়ে রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরওয়ার কামাল জানান, সীমান্তের জিরো লাইনে পালিত গরু খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে সীমান্তের জিরো লাইনে বিজিবি’র যাবার কোনো নিয়ম নেই, তাই লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে নারীসহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো তিনজন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুল আজিম।
স্থানীয়রা জানায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, বাইশফাঁড়ি, রেজু, আমতলী, চাকঢালা, আষাঢ়তলীসহ সীমান্তের ৯টি পয়েন্টে সীমান্তের জিরো লাইনে কাঁটাতার ঘেঁষে স্থলমাইন বসিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বান্দরবান সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা জিরো লাইনে অবস্থান করছে। এছাড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করতে প্রায় সময় গুলিবর্ষণ করছে মিয়ানমার বাহিনী। এ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষও।
ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার কর্নেল আনোয়ারুল আজিম বলেন, মিয়ানমার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে স্থলমাইন ও বিস্ফোরক পুতে রেখেছে। মূলত নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ঠেকাতেই তারা এটি করেছে।