সীতাকু-ের প্রাইভেটকার কার ছিনতাই যেভাবে খুন হলেন চালক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাইভেটকার ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালককে খুন করে লাশ গুম করার চেষ্টার অভিযোগে চার যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স’ানীয় জনতার সহায়তায় শুক্রবার রাতে আকবর শাহ থানার মোসত্মফা হাকিম ডিগ্রি কলেজ সংযোগ সড়ক এলাকা থেকে দুজনকে এবং গভীর রাতে চান্দগাঁও এলাকা থেকে অন্য দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত প্রাইভেটকার চালকের নাম নুরম্নল গণি শিমুল (২১)। তিনি সীতাকু- পৌরসভা আমিরাবাদ এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল কমিশনারের বাড়ির আবুল কালাম ওরফে আলমের ছেলে। তার প্রাইভেটকারের নম্বর চট্টমেট্রো-গ-১২-৫০২৬। এ ঘটনায় গতকাল দুপুরে শিমুলের বাবা আবুল কালাম আকবর শাহ থানায় ধৃত

চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
শিমুল হত্যায় গ্রেফতারকৃত ওই চারজন হলো নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার ঘাটলাবাগ এলাকার মাহফুজুর রহমানের ছেলে মীর হোসেন নিশান (২১), সীতাকু- থানার দড়্গিণ রহমতনগরের মো. রফিকের ছেলে রবিউল হোসেন ইমন (২০), রাউজান থানার উরকিরচর মীরপাড়ার আবদুস সালামের ছেলে নেওয়াজ শরীফ (২৪) এবং সীতাকু- থানার গোলাবাড়িয়া এলাকার শুক্কুরের বাড়ির সাইফুল ইসলামের ছেলে জসিম উদ্দিন নিশান (২২)। এর মধ্যে মীর রবিউল হোসেন নিশান নগরের পোর্টসিটি ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয়বর্ষের শিড়্গার্থী বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে।
আকবর শাহ থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান, গ্রেফতার হওয়া চারজনের মধ্যে দুজন পেশাদার অপরাধী। তারা হলো রাউজান থানার উরকিরচর মীরপাড়ার আবদুস সালামের ছেলে নেওয়াজ শরীফ (২৪) এবং সীতাকু- থানার গোলাবাড়িয়া এলাকার শুক্কুরের বাড়ির সাইফুল ইসলামের ছেলে জসিম উদ্দিন নিশান (২২)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ দুজন জানিয়েছে, এর আগে শহর ও জেলা এলাকায় চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা- ঘটিয়েছে তারা। প্রাইভেটকার চালক শিমুল হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বাকি দুজন ছিনতাইয়ের পেশায় নতুন। তাদের একটি সিন্ডিকেট আছে। গ্রেফতার চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত শুক্রবার দিনগত রাত ৯টায় সীতাকু- থানা এলাকা থেকে শিমুলের প্রাইভেটকারটি দেড়হাজার টাকায় ভাড়া করে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় যাত্রীবেশী চার ছিনতাইকারী। এসময় তিনজন বসে গাড়ির পেছনের সিটে। একজন বসে সামনে। পথিমধ্যে ব্যক্তিগত কাজ আছে জানিয়ে গাড়িটি হাতিলোডা নামক জায়গায় থামায় ছিনতাইকারীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগে পেছনের সিটে বসা তিনজন ছিনতাইকারী তাদের হেফাজতে থাকা রশি দিয়ে শ্বাসরোধে প্রাইভেটকার চালক নুরম্নল গলি শিমুলকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করে শিমুলের মরদেহ ওই কারের পেছনের সিটে বসিয়ে দেয়। এরপর ছিনতাইকারী রবিউল হোসেন ইমন বসে চালকের আসনে। এরপর শিমূলের লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে সাগরপাড়ের নির্জন এলাকার দিকে রওনা দেয় তারা।
নগরের আকবর শাহ থানাধীন ঈশান মহাজন রোড হয়ে মোসত্মফা হাকিম ডিগ্রি কলেজের সংযোগ সড়ক ঘোষ বাড়ির কাছে পৌঁছালে গ্যাসলাইনের সাথে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনায় পতিত হয় প্রাইভেটকারটি। তাদের উদ্ধার করতে স’ানীয় জনগণ এগিয়ে আসলে গাড়িতে শিমূলের লাশ রেখে পালানোর চেষ্টা করে চার ছিনতাইকারী। এসময় স’ানীয় জনতা ছিনতাইকারী মীর হোসেন নিশান ও রবিউল হোসেন ইমনকে ধরে গণপিটুনি দেয়। বাকি দুজন পালিয়ে যেতে সড়্গম হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস’লে পৌঁছে আকবর শাহ থানা পুলিশের টহল টিম। জনতার হাতে আটক ওই দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর শিমূলের লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই প্রাইভেটকার থেকে শিমূল খুনে ব্যবহৃত রশি ও একটি ছুরি জব্দ করে পুলিশ। একই রাতে আকবর শাহ থানার ওসি (তদনত্ম) মহিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নগরের চান্দগাঁও এলাকা থেকে পলাতক আসামি নেওয়াজ শরীফ ও জসিম উদ্দিন নিশানকেও গ্রেফতার করে।