‘সিসিডিআর’কর্তা জাহিদ অবশেষে পুলিশের জালে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কাউখালী

গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় আটক এনজিও মালিক জাহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। জাহিদ রাঙামাটির স’ানীয় এনজিও সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্স (সিসিডিআর)’র মালিক। রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন কাপাসগোলা এলাকার নিজ ফ্ল্যাট থেকে তাকে আটক করে কাউখালী থানা পুলিশ। সোমবার রাঙামাটি আদালতে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। গ্রেফতারের খবরে রাঙামাটির গ্রাহকরা তাকে আদালত প্রাঙ্গণে দেখতে ভিড় জমান।
এসময় তারা আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো মূল্যে তাদের লগ্নীকৃত টাকা উদ্ধার করে দিতে হবে। রাঙামাটি ও বান্দারবানে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে তার নামে। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন জানান, জাহিদের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। সংস’াটির গ্রাহকদের পক্ষে চলতি বছরের ৬ জুন কাউখালী ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন মামলা করেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্বে দেন কাউখালী থানার এসআই ভক্ত চন্দ্র দত্ত ও এএসআই মো. আব্দুল জলিল।
চালবাজ জাহিদ : সঞ্চিত টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে সন্দেহ হলে ৬ জুন গ্রাহকরা সংস’াটির পরিচালক জাহেদুল ইসলামকে রাঙ্গুনীয়ার গোচরা চৌমুহনী থেকে আটক করে দুই সহযোগীসহ। পরে কাউখালী থানায় আনার পথে রাঙ্গুনীয়ার সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপের মাধ্যমে জাহেদ নিজেকে উদ্ধার করেন। তারা পরে তাকে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রামের নিজ ফ্ল্যাটে পৌঁছে দেয় বলে জানা গেছে। এই চালবাজি করে জাহেদ পালিয়ে গেলেও সংস’াটির অন্য দু’জন প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনিটর মো. জালাল উদ্দিন, কাউখালী ব্রাঞ্চ ম্যানেজার লিটন চাকমাকে পুলিশে তুলে দেয় গ্রাহকরা।
অভিযোগের পাহাড় : নির্দিষ্ট সময় পার হলেও গ্রাহকের টাকা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকে সিসিডিআর কর্তৃপক্ষ। অজানা কারণে প্রশাসনও তেমন একটা গুরুত্ব দেয়নি বিষয়টিতে। বিভিন্ন জায়গায় টাকা উদ্ধারে মানববন্ধন, বিক্ষোভও চলে। সমপ্রতি রাঙামাটিতেও মানববন্ধনসহ আন্দোলন হয়। এরপরও গ্রাহকের টাকা উদ্ধার করা যায়নি।
কাউখালীর ৯৮০ জন গ্রাহকের মধ্যে চার শতাধিক গ্রাহকের সঞ্চয় হিসাবের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। কিন’ মেয়াদ পূর্ণ হওয়া গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ের পরেও তাদের টাকা ফেরত পাননি। এক পর্যায়ে তারা ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজারকে চাপ দেয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সিসিডিআর লগ্নীকৃত অর্থ উদ্ধার কমিটির সদস্য সচিব খোকন কুমার দে বলেন, জাহিদকে ্রেফতারে আপতত স্বস্তি এসেছে। তবে রাঙামাটি শহরে বিভিন্ন ব্যক্তির লগ্নীকৃত প্রায় ২০ কোটি টাকা উদ্ধারে প্রশাসনকে ত্বরিৎ ব্যবস’া নিতে হবে।
গ্রাহকের টাকার কি হবে? : এ সংস’ার মোট ২৭টি শাখার মধ্যে শুধু কাউখালী ও বান্দারবান থেকে আত্মসাৎ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। অবশিষ্ট শাখাগুলোতেও একই অবস’া বলে ধারণা করছে পুলিশ। ২৭টি শাখায় গ্রাহকের আত্মসাৎকৃত টাকা ৫০ কোটি ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সোমবার সকালে আলোচিত জাহিদুল ইসলাম আটকের খবরে থানায় ছুটে আসেন শতাধিক গ্রাহক। কিন’ বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় চলে যাওয়ায় এই মুহূর্তে গ্রাহকের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ঝুলে গেছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ গ্রাহক। ফলে অনেককে হতাশ হয়ে থানা থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
তবে কাউখালী থানার ওসি কবির হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় তার জন্য মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত তার বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করা হবে।