সিরিজ বাংলাদেশের

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

দারুণ এক সেঞ্চুরিতে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার চেষ্টা করলেন শেই হোপ। তবে মেহেদী হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের দারুণ বোলিংয়ে বাংলাদেশ পেল ছোট লক্ষ্য। রান তাড়ায় শতরানের জুটিতে পথ দেখালেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। গতকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রথম ওয়ানডে জয় দিয়ে রাঙাল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ৮ উইকেটের জয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে নিল সিরিজ। তামিম-সৌম্যর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৯৯ রানের লক্ষ্য ৭৯ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে গেল স্বাগতিকরা। খবর বিডিনিউজ’র।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের বোলিং ছিল দারুণ। বোলাররা লাইন-লেংথ হারিয়েছেন খুব কমই। আঁটসাঁট বোলিং করে যাওয়া স্বাগতিকরা খেলিয়েছে ১৭৯টি ডট বল। হোপের ৯ চার আর এক ছক্কার বাইরে এসেছে মোটে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা।
সফরকারীদের ইনিংসে নেই কোনো পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মারলন স্যামুয়েলসের ১৯। ছোট লক্ষ্য কোনো সমস্যায় ফেলতে পারেনি বাংলাদেশকে। দারুণ কাটানো একটি বছরে নিজেদের সবশেষ ওয়ানডেতে পেল অনায়াস জয়। জিতল টানা তৃতীয় সিরিজ।
রান তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল সাবধানী। মারার বল পেলে মারছিলেন লিটন দাস ও তামিম। ঝুঁকি নিচ্ছিলেন না কেউই। রান রেটের কোনো চাপ ছিল না। হাতে ছিল অনেক সময়। তবুও সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেন না লিটন। আরও একবার থিতু হয়ে যাওয়ার পর ফিরলেন বাজে শটে। তার বিদায়ে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ ইমরুল কায়েসকে বাদ দিয়ে মিডল অর্ডারে মোহাম্মদ মিঠুনকে ফেরায় বাংলাদেশ। টপ অর্ডারে ফিরেন সৌম্য। নিজের জায়গায় ফিরে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান যেন ফিরে পান নিজেকে। শুরু থেকে খেলেন আস’ার সঙ্গে। দ্রুত জমে যায় তামিমের সঙ্গে তার জুটি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস-স্পিন কিছুই ভাবাতে পারেনি দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। পরে নামা সৌম্য ফিফটির আগেই প্রায় ধরে ফেলেছিলেন তামিমকে। তবে দেশসেরা ওপেনারই প্রথমে পৌঁছান ফিফটিতে। খানিক পর পঞ্চাশ ছোঁয়া সৌম্য ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে বিশাল দুই ছক্কা হাঁকিয়ে তামিমকে ধরে ফেলেন। পরে লেগ স্পিনার বিশুর এক ওভার থেকে ১৪ রান তুলে নিয়ে এগিয়ে যান অনেকটা।
দ্রুত ম্যাচ শেষ করার চেষ্টায় থাকা সৌম্যকে বোল্ড করে থামান পল। ভাঙেন ১৩১ রানের জুটি। এই জুটিতে সৌম্যর অবদান পাঁচটি করে ছক্কা-চারে ৮১ বলে ৮০, তামিমের ৭১ বলে ৪৯।
সৌম্যর বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন তামিম। চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেওয়া বাঁহাতি এই ওপেনার অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। তার ১০৪ বলের দায়িত্বশীল ইনিংস গড়া ৯ চারে। মুশফিক ১৪ বলে করেন ১৬। এর আগে হাবিবুল বাশারকে ছাড়িয়ে দেশকে সবচেয়ে বেশি ৭০ ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড গড়া মাশরাফি শুক্রবার টস জিতে নেন ফিল্ডিং। শুরুতেই চন্দ্রপল হেমরাজকে ফিরিয়ে অধিনায়কের মুখে হাসি এনে দেন মিরাজ।
এক প্রান্তে হোপ যতটা আলো ছড়িয়েছেন অন্য প্রান্তে ততটাই বিবর্ণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং। তরুণ কিপার ব্যাটসম্যান খুব একটা সাহায্য পাননি কারোর কাছ থেকে। দুই অঙ্ক ছোঁয়ার পর মিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন ড্যারেন ব্রাভো। হোপ-স্যামুয়েলসের ব্যাটে ২ উইকেটে ৯৬ রানের মোটামুটি ভালো একটি অবস’ানে পৌঁছায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করে বাংলাদেশ। বোল্ড করে স্যামুয়েলসকে থামান রুবেল হোসেনের জায়গায় সুযোগ পাওয়া মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন। মিরাজ দুই ওভারের শেষ স্পেলে ফিরে দ্রুত ফেরান শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েলকে। বাঁহাতি হেটমায়ার সফরে ষষ্ঠবারের মতো আউট হলেন মিরাজের বলে। দুই অলরাউন্ডার রোস্টন চেইস ও অ্যালেনকে দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই বিদায় করেন সাকিব।
১৪৩ রানে ৭ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুইশ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান হোপ। তাকে খানিকটা সঙ্গ দেওয়া পলকে বিদায় করেন মাশরাফি। বাংলাদেশ অধিনায়ক পরে তুলে নেন কেমার রোচের উইকেট। সাকিবকে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো হোপ শেষ পর্যন্ত ১৩১ বলে অপরাজিত থাকেন ১০৮ রানে। হঠাৎ হঠাৎ নিচু হয় এমন মন’র উইকেটে কিভাবে ব্যাটিং করা উচিত তার দারুণ এক প্রদর্শনী ছিল যেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানের ইনিংস।
বাংলাদেশের সব বোলারকেই সামলেছেন আস’ার সঙ্গে। একের পর এক সঙ্গী ফিরে গেলেও তেড়েফুড়ে মেরে খেলার প্রবণতা দেখা যায়নি তার মধ্যে। খেলেছেন বল বুঝে। নিজের জোনে পেলে তুলে নিয়েছেন বাউন্ডারি। টানা দুটি অপরাজিত সেঞ্চুরিতে হোপ জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ উইকেট নেন ২৯ রানে। দারুণ বোলিংয়ে সুরটা বেঁধে দেওয়া অফ স্পিনার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে দুইশ ওয়ানডের মাইলফলক স্পর্শ করা মাশরাফি ২ উইকেট নেন ৩৪ রানে। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব ৪০ রানে নেন দুটি।