সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট দশ তলায় উন্নীত হচ্ছে

থাকবে আইটি ভিলেজ-সিনেপ্লেক্স-কিডস জোন

মোহাম্মদ আলী

৫০ কোটি টাকায় দশ তলার পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ভবন হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মালিকানাধীন সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেট। বহুতল এই ভবনটির উপরের পাঁচটি তলায় গড়ে তোলা হবে হাইটেক পার্ক। এছাড়া ভবনটিতে সিনেপ্লেক্স, কিডস জোনসহ থাকছে স্কেলেটর সুবিধা। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটির কাজ আগামী বছর শুরু হতে পারে।
বহুতল এই ভবনটির কোন ফ্লোরে কী থাকবে জানতে চাইলে চসিকের প্রকৌশলীরা জানান, আধুনিকায়নের পর ভবনটির প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত থাকবে মার্কেট। বিনোদনের জন্য পঞ্চম তলায় থাকবে সিনেপ্লেক্স/ থিয়েটার, বাচ্চাদের জন্য কিডস জোন, ফুড কোর্ট। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত ৫টি ফ্লোরের প্রতিটিতে ২০ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর মিলিয়ে মোট ১ লাখ বর্গফুট এলাকায় গড়ে উঠবে আইটি ভিলেজ বা হাইটেক পার্ক। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাস্তবায়ন হতে যাওয়া ভবনটিতে থাকবে দুইটি লিফট ব্লক (প্রতি ব্লকে দুটি লিফট) থাকবে। নিচ তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত থাকবে দুটি স্কেলেটর। আর পুরো ভবনটি হবে কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
বর্তমানে সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক মার্কেটটিতে চার তলা পর্যন্ত রয়েছে ৩০৪ টি দোকান। পঞ্চম তলায় রয়েছে আংশিক রাজস্ব সার্কেল-৭ এর অফিস এবং অবশিষ্ট ফ্লোর খালি। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন প্রায় ২৮,০০০ বর্গফুট। দোকানের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে চসিকের আয় হয় প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরিকল্পনা হিসেবে রয়েছে ৫ম তলা পর্যন্ত আধুনিকায়ন এবং ৬ষ্ঠ হতে ১০ম তলা পর্যন্ত ভবন সম্প্রসারণ। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বছরে চসিকের আয় হবে প্রায় ৯ কোটি টাকা। ভবনটি দশতলার ফাউন্ডেশনে নির্মিত।
জানা যায়, ভবনটির প্রথম তলা থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত আধুনিকায়নের কাজে ব্যয় হবে প্রায় ২০ কোটি টাকা। মার্কেটের ফ্লোর অগ্রিম ভাড়া দিয়ে এ অর্থের সংস্থাপন করবে চসিক। আর ৬ষ্ট থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত ভবন সম্প্রাসরণ কাজ ও আইটি ভিলেজ তৈরিতে ব্যয় হবে ২০ কোটি টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে বিশ্ব ব্যাংক এই টাকার অর্থায়ন করবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও চসিকের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। বর্তমান ভবনটি না ভেঙ্গে তা উপরের দিকে সম্প্রসারণ করা হবে এবং এজন্য একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিজাইনের কাজ করছে। গত সোমবার বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক পরিদর্শন করেছেন। ভবনটির জায়গা, কাঠামো, ফাউন্ডেশন ঠিক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দলটি।
এ ব্যাপারে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল বুধবার সুপ্রভাতকে বলেন, ‘প্রায় ১৪ বছরের পুরনো ভবনটি সহসাই আমরা আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। বর্তমানে ফিজিবিলিটি স্টাডি ও এসেসমেন্টের কাজ চলছে। ফিজিক্যাল স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর টেন্ডার আহ্বান করা হতে পারে।’
নতুন এই প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘মানুষের রুচি এবং যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতেই এই ধরনের আয় বর্ধক প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে ২৮ হাজার বর্গফুটের এই জায়গাটি বরাদ্দ পায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। ২০০৪ সালে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী আমলে এই মার্কেটটি নির্মিত হয়।