সাড়ে ১২ লাখ তরম্নণ ভোটার হবে নির্ধারক

ভূঁইয়া নজরম্নল

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারক হবে নতুন ভোটাররা। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর এবার চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ভোটার। অতীতের ভোটারদের ভোট গতানুগতিক ধারায় একই দিকে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই হিসেবে নতুন ভোটাররাই নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে থাকে। চট্টগ্রামের ড়্গেত্রেও এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। এবার সবচেয়ে বেশি নতুন ভোটার রয়েছে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে। এই আসনে প্রায় তিন লাখ নতুন ভোটার।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ভোটার ছিল ৪৩ লাখ ৮৯ হাজার ৫৯৩ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই নির্বাচনের পর ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন ছিল একপেশে। সেই নির্বাচনে সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। ১৪৭টি আসনে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ৭টি সংসদীয় আসনে (চট্টগ্রাম-১, ৫, ৬, ৭, ৮, ১০ ও ১৪) প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল এবং বাকি ৯টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। সেই নির্বাচনে সারাদেশে গড়ে ৪০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। তবে, চট্টগ্রামের কোনো কোনো আসনে সর্বনিম্ন ১৪ শতাংশ (চট্টগ্রাম-১১) এবং সবচেয়ে বেশি ৬৮.৯৩ শতাংশ (চট্টগ্রাম-১৩) আসনে ভোট পড়ে। সেই নির্বাচনে অনেক নতুন ভোটার ভোট দিতে যায়নি।
এবারের তালিকায় চট্টগ্রামের ভোটার সংখ্যা ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৬১ জন। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবে ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬৮ জন।
প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়া এই সাড়ে ১২ লাখ ভোটার নির্বাচনে ফ্যাক্টর হবে জানিয়ে প্রফেসর ইমিরেটস ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘আগে যারা ভোট দিয়েছে তারা এবারো পূর্ববর্তী সময়ে যেদিকে ভোট দিয়েছে সেদিকেই ভোট দেবে- এ ধারাবাহিকতা মেনে নেয়া হয়। সেই হিসেবে নতুন ভোটাররা সবসময় নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচন যেহেতু ফলপ্রসু ছিল না, তাই সেবারের নতুন ভোটার ও এবারের নতুন ভোটার মিলিয়ে যারা ২০০৮ সালের পর সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসছে তারা অবশ্যই গুরম্নত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন এই ভোটারদের কতো শতাংশ কোন দিকে যাবে সেটা বিবেচ্য বিষয়।
নতুন এ ভোটারদের উদ্দেশ করে চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনের মধ্যে তরম্নণ প্রার্থী ব্যারিস্টার মহীবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ‘তাদের হাতে আগামী দিনের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে তা ঠিক করবে এই তরম্নণ ভোটাররাই। ১৯৭০ সালের নির্বাচন, দেশের স্বাধীনতাসহ সব ড়্গেত্রেই নির্ধারক হিসেবে ছিল তরম্নণরা। তাই এবারের নির্বাচনেও এই তরম্নণদের হাতে ভোট অস্ত্র রয়েছে, তারা ভোটের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশের গনত্মব্য ঠিক করবে।’
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তরম্নণদের প্রাধান্য দিয়ে দেশেই কর্মসংস’ানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার কাজ করছে। তাই তরম্নণদেরকে আওয়ামী লীগের উপর ভরসা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অপরদিকে বিএনপি নেতা আমীর খসরম্ন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০০৮ সালের পর এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ওটা তো নির্বাচন ছিল না। সেই হিসেবে ভোটাররা প্রায় ১০ বছর পর ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আর প্রথমবারের মতো যারা ভোট দিতে আসছে তারা অবশ্যই ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে সন্দেহ নেই।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আনত্মর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিড়্গার্থী মাজেদুল জাহান জানান, তিনি এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ভোট দেয়ার আনন্দই আলাদা। তবে কাকে ভোট দেবো তা নিয়ে এখনো ভাবা হয়নি। আমরা উন্নয়নের ধারবাহিকতার পাশাপাশি অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রত্যাশা করি।