সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আপসহীন ছিলেন বাদল

বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ নুরম্নল আম্বিয়া বলেন, “জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার সাথে মইন উদ্দীন খান বাদল কোনদিন আপস করেননি।

গতকাল বিকেল ৩ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে সাংসদ মইনউদ্দীন খান বাদল স্মরণে এক শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরের কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পড়্গে বাদলের ভূমিকা ছিল অত্যনত্ম স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ। সংসদের ভিতরেও একজন পার্লামেন্টেরিয়ান হিসেবেও তিনি যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। স্বৈরতন্ত্রের বিরম্নদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি অনেকবার কারাবরণ করেছিলেন। বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় স’ায়ী কমিটির সদস্য ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন, জাসদ মুক্তিযুদ্ধের ফসল একমাত্র স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল। জাসদ বাংলাদেশের জাতীয় অনেক রাজনৈতিক সেস্নাগানের স্রষ্টা। জাতীয় রাজনীতিতে জাসদ অনেক সূর্য সনত্মান সৃষ্টি করেছে।  মইন উদ্দীন খান বাদল জাসদ পরিবারেরই সৃষ্ট জাতীয় রাজনীতির এক উজ্জ্বল নড়্গত্র। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের দাবি দাওয়া নিয়ে চট্টগ্রামের আর কোনও নেতাকে সংসদে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি। সংসদের ভিতরেও বাহিরে চট্টগ্রামবাসীর স্বার্থ নিয়ে বাদলের সিংহের মত গর্জন আর কখনো শোনা যাবে না। বাদল ছিলেন আপদামসত্মক একজন গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিবিদ। তার প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক সদাচার ছিল যথেষ্ট প্রশংসার দাবীদার।

বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান একটি গণমুখী কর্মসূচির ভিত্তিতে জাসদ পরিবারকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমেই মঈনউদ্দীন খান বাদলের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো যায়।

বক্তারা বলেন, তাঁর মৃত্যুতে আমাদের দল একজন দড়্গ নেতাকে হারিয়েছে, জাতি হারিয়েছে রাজনীতির এক সিংহ পুরম্নষকে আর চট্টগ্রামবাসী হারিয়েছে চট্টগ্রাম দরদী এক সাহসী রাজনৈতিক অভিভাবককে। তাঁর  তেজস্বী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য মানুষকে উদ্বেলিত করতো। শেষ জীবনে চট্টগ্রাম কালুরঘাট এলাকার একটি রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং পরিষ্কার ঘোষণা দিয়েছিলেন কালুরঘাট সেতু নির্মাণ কার্যক্রম দৃশ্যমান না হলে আগামী ডিসেম্বর মাসে তিনি সংসদ থেকে পদত্যাগ করবেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ডিসেম্বরের আগেই তিনি পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়ে গেলেন।”

বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহ সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ কাশেমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নাসিরম্নল হক, নুরম্নল আলম মন্টু, ফাহিম উদ্দীন, গোলাম জিলানী চৌধুরী, জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী, ভানুরঞ্জন চক্রবর্তী, মোজাহারম্নল হক শাহ চৌধুরী, জসিম উদ্দীন বাবুল, হারিছ চৌধুরী, রাজেন্দ্র প্রসাদ চৌধুরী, অধ্যাপক দিলীপ কানিত্ম দাশ, সিরাজুল ইসলাম রাজু, আবু বক্কর সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ উদ্দীন পাশা।