সামার ফ্যাশনের ঝলক

দেউড়ি ডেস্ক
1

ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ, তবু বছর জুড়ে গরমের দাপট থাকে। এর মধ্যে আমাদের প্রতিদিন নানা কাজে, অফিসে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান যেতে হয়। এত গরমে রংচঙা, ভারী কাপড় পরে বের হলে কেমন হতে পারে তা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই? ফ্যাশন বলতে শুধু কিন’ হাই-মেকাপ নয়, এর সাথে সম্পর্কিত থাকে একটি কমফোর্টেবল লুকও। ‘ড্রেসিং সেন্স’ বলে প্রায়ই একটা টার্ম আমরা শুনে থাকি। গরমে কি করে ফ্যাশনেবেল ও আরামদায়ক থাকা যায়, তার ধারণাই আজ জানবো আমরা।
সিকোয়েন্স- ১: স্কিনটোন এন্ড শেইপ
অনেকের গায়ের বর্ণ নিয়ে দ্বিধাবোধ থাকে যে, কোন রঙে দেখতে উজ্জ্বল লাগবে আর কোন রঙে লাগবে না । কোন প্রিন্ট-এ কেমন মানাবে তাও বুঝা একটু কঠিন হয়ে যায়। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে খুব সহজেই নিজের পছন্দের রঙ ও প্রিন্ট-এর পোশাকগুলো বাছাই করা যায়।
চলুন তবে জেনে নেই কোন রঙে কাকে কেমন মানায়।
যাদের বর্ণ উজ্জ্বল
উজ্জল বর্ণে সব রঙই মানায়। তবে, বড় ও ঘিঞ্জি ডিজাইন ব্যবহার না করাই ভালো । ছোট ছোট ফ্লোরাল প্রিন্ট, ছোট পোলকা ডট, হাল্কা বাটিকের ডিজাইন, ছোট বস্নকের কম্বিনেশন- এ ধরনের কাপড়ের পোশাকগুলো আপনাকে আরাম দেবে এবং সাথে করে তুলবে আকর্ষণীয়।
যাদের বর্ণ শ্যামলা
শ্যাম বর্ণটি খুবই আকর্ষণীয় একটি বর্ণ। এই বর্ণে ডার্ক কালারগুলো খুব মানায়। যেমন ধরম্নন- ম্যাজেন্টা, ফিরোজা, কালচে কমলা- এই ধরনের রঙগুলো শ্যাম বর্ণকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে। মাঝারি বস্নক বাটিক ও এনিমেল প্রিন্ট কম্বিনেশনের পোশাক নিতে পারেন। শারীরিক গঠনের সাথেও রয়েছে ফ্যাশনের সম্পর্ক। ফ্যাশনের ড়্গেত্রে স্কিনটোনের সাথে সাথে শারীরিক গঠন বুঝে কাপড় বাছাইটাও কিন’ খুব গুরম্নত্বপূর্ণ। আচ্ছা চিনত্মা করে দেখুন তো সামনে একই সাইজের ড্রেস রাখা আছে, সব শেইপের মানুষ কি একই সাইজের ড্রেসে ফিট হবে? – উত্তর হচ্ছে কখনই না। একেক জনের বডি শেইপ একেক ধরনের হয়। এখন জানবো, কোন্‌ গঠনের সাথে কেমন পোশাক ভালো মানাবে।
শর্ট-হাইট
এক কালারের ড্রেস, যেমন- মুডি কালার, ডার্ক মেরম্নন, ব্রাউন, ডার্ক গ্রিন, বাসনত্মী, ছোট প্রিন্ট, ফ্লোরাল ইত্যাদি।
পস্নাস সাইজ
যারা পস্নাস সাইজের, তারা উজ্জল ও শ্যাম বর্ণ অনুযায়ী কাপড় পছন্দ করতে পারেন যেমনটা উপরে স্কিনটোন সিকোয়েন্সে উলেস্নখ করা হয়েছে।
সিকোয়েন্স-২: কমফি ফ্যাশনেবল সামার লুক
অনেকেই ফ্যাশন বলতে ভারী ও গরজিয়াস লুককে মনে করেন। আসলে তা নয় কিন’। আপনি যেটাই মার্জিতভাবে আপনার মতো করে পরিধান করবেন, তাই হবে আপনার ফ্যাশন। আমাদের রেগুলার ড্রেস-গুলোকে কিভাবে ফ্যাশনেবল ও অ্যাট্রাকটিভ করে পরা যায় তাই নিয়ে কথা বলবো। আমাদের রেগুলার চলাফেরার জন্য কুর্তিটা একই সাথে খুবই আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। কিন’ এটা কি দিয়ে পরা যায় এ দ্বিধায় অনেকেই পড়েন। এড়্গেত্রে আপনার কুর্তিটা যদি ফিটিং হয় তাহলে ডিভাইডার, থ্রি-কোয়ার্টার, লেগিংস, রিপড জিন্স, ফুল লেগিংস- এসব দিয়ে পরতে পারেন।
পালাজ্জোর ফ্যাশনটা খুবই আরামদায়ক এবং দেখতেও মার্জিত। এখন মার্কেটে স্কার্ট শেইপের পালাজ্জো পাওয়া যাছে এগুলো অন্যান্য পালাজ্জোর তুলনায় হাইটে বড় ও লুজ ফিটিং । এগুলোর সাথে ক্রপ টপ , বেলি পর্যনত্ম হাইটের টি-শার্ট, টপস, শর্ট টপস হাঁটু পর্যনত্ম লম্বা ফতুয়া- এগুলো পরতে পারেন। বেল বোটম প্যান্টগুলো কিন’ দেখতে সুন্দর এবং পরতেও আরামদায়ক । এর সাথে ক্রপ টপস, শর্ট টপস, শার্ট- এগুলো পরতে পারেন।
অনেকে সিস্নভলেস পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না । আপনি যদি শার্ট, ফতুয়া, টপস ও লং-কামিজ পরেন, সাথে লং জ্যাকেট ,কেইপ, হাফ জ্যাকেট, শ্রাগ ইত্যাদি পরতে পারেন। ভাবছেন গরমে আবার এগুলো কিভাবে পরবেন ? তাহলে বলি, মার্কেটে নেট, কটন ও জর্জেট-এর কেপ, শ্রাগ, জ্যাকেট পাওয়া যাছে। ব্যস! আপনার ড্রেস এর সাথে মিলিয়ে পছন্দ করে নিন।
এইতো জেনে নিলেন সামার ফ্যাশন-এর কিছু বেসিক প্রয়োজনীয় কথা। গরম সবার কাছেই বিরক্তিকর লাগে, অনেকে ভাবেন গরমে আবার ফ্যাশন কি? এই বেসিক ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে চললে একটি আরামদায়ক ফ্যাশনেবল সামার লুক পাওয়া আসলেই কঠিন কিছু নয়।