সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য বিষয় পঠন-পাঠনের জন্য দেশের একমাত্র বিশেষায়িত কলেজ হিসেবে এতদিন ধরে সামদৃত হয়ে আসছিল সরকারি কমার্স কলেজ। কিন’ ২০১৭ সাল থেকে কলেজটির ইতিহাস-ঐতিহ্যকে উপেক্ষা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলা, ইংরেজি স্নাতক বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। শিক্ষাবিদ ও চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শায়েস্ত খানের এ নিয়ে নানা সময় দেওয়া পোস্টের কিছু প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হল-
তাবরিজ চৌধুরী : চিটাগং সরকারি কমার্স কলেজ
একমাত্র বিশেষায়িত কলেজ যা দেশভাগের ফলস্বরূপ কলকাতা থেকে আমরা পেয়েছি! চিটাগং কলেজের সাথে মার্চ করার চেষ্টা সফল হয়নি কেবল বিশেষায়িত কলেজ বলে! সমপ্রতি সরকার কলেজটিতে বাংলা এবং ইংরেজি বিভাগ চালু করেছে! কীভাবে ঐতিহ্য নষ্ট করা যায় তার একটি বিপ্লব চলছে যেনো! আরে বেটা বাংলা ইংলিশ এর সাথে আরবি ফার্সি পালি সংস্কৃতি ছাগলচাষবিদ্যা খুল্লি না কেনো ?
শফিউদ্দিন আহমেদ: এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করতে হবে।
অ্যাডভোকেট মো. মাহবুবুল ইসলাম: এই চক্রান্ত রুখে দিতে হবে।
জগলুল খান: এ কেমন অন্যায় ও অসুস’তা! ঐতিহ্য তো গেলই, এখন নামটাও বদলিয়ে ফেলেন।
আনছারুল ইসলাম: চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ। সমগ্র দেশজুড়েই এই কলেজের একটি সুনাম রয়েছে! অনেক ছাত্রছাত্রী এই কলেজ থেকে বাণিজ্যে গ্র্যাজুয়েশন করে সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত! আমদের সকলেরই এই সুন্দর কলেজটির ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য সচেষ্ট হতে হবে।
শাকিল মানজুর: প্রতিবাদ করতে হবে সংগঠিত হয়ে।
মিরা কবির: এটি খুবই দুঃখজনক। উন্নয়নের নামে ঐতিহ্য নষ্ট করা ছাড়া এ আর কিছু নয়।
শওকত চৌধুরী: কমার্স কলেজে ইংরেজি আর বাংলা বিভাগ চালু হয়েছে জেনে খুশি হতে পারি নাই। হয়তো ইসলামের ইতিহাস থেকে ফলিত রসায়নও চালু হয়ে যাবে আগামী বছর। কিন’ যারা এই সব বিষয় চালু করল তাদের কি বুদ্ধি জ্ঞান কিছু নাই? বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের বাণিজ্য সমপ্রসারণ থেকে প্রতিটি জায়গায় কমার্স কলেজের অবদান বেশি। আজ সেই রকম একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজকে এভারেজ কলেজ করা, শুনে কষ্ট পাওয়া ছাড়া কিছুই করার নাই।
শাহনুর চৌধুরী: আসলে ছাগলচাষ খুবই অর্থকরী!
আগা আজহারুল ইসলাম চৌধুরী: নেক্সট টাইম ভেটেরিনারির ফ্যাকাল্টি খুলে কুত্তা-বিলাইয়ের ডাক্তার প্রডাকশন করা যায়!
শামসুল হক: অতীব দুঃখের সহিত বলতে হয়, কিছুই করতে পারবেন না, কারণ মেরুদণ্ড ভেঙ্গে ফেলেছে।
এহসান হক: এইটা একটা গাঁজাখুরি সিদ্ধান্ত। দায়িত্বরতরা কি সুরার বৈঠক থেকে ঝিমধরা মাথায় এরকম সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? বিশেষায়িত কলেজকে আরো গতিশীলকরণের সৎ খেয়াল থাকলে সম্পৃক্ত বিষয়ের উপর আরও শাখা কি খোলা যেত না?
বিলকিস পলি: দেশের একমাত্র বাণিজ্যিক কলেজের বারোটা বাজানো মেনে নেওয়া যায় না।
রাশেদ মো. আলী: কমার্স কলেজের একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এ সিদ্ধান্তে আমি খুব আহত হয়েছি। প্রাক্তন ছাত্র সমিতির মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই বেমানান সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।
সজল বড়ুয়া: এই সিদ্ধান্তে আমি মর্মাহত ও হতবাক হয়েছি।
মিজানুর রহমান: এটি আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটাচ্ছে।