সামাজিক বনায়নের পাহাড় কেটে প্লটবাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া
প্লট হিসেবে বিক্রির জন্য চকরিয়ায় সামাজিক বনায়নের মাটি কাটা হচ্ছে
প্লট হিসেবে বিক্রির জন্য চকরিয়ায় সামাজিক বনায়নের মাটি কাটা হচ্ছে

চকরিয়ায় সামাজিক বনায়নের জায়গা দখল করে মাটি কেটে চলছে প্লট বিক্রির মহোৎসব। কয়েকমাস ধরে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটস্থ চা বাগান এলাকায় স্থানীয় নুরুস শফি নামের এক ব্যক্তি উপকারভোগী লোকজনকে জিম্মি করে দাপটের সাথে এ অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত নুরুস শফি স্থানীয় চা বাগান উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আলী মিয়ার ছেলে।
জায়গা দখলের পর মাটি কেটে প্লট বিক্রি করার ঘটনাটি স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো হলেও বনবিভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় বনায়নের অংশীদার উপকারভোগী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের অধীন ডুলাহাজারা বনবিটের আওতায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মালুমঘাট চা বাগান ও আশপাশ এলাকার দরিদ্র কয়েকটি পরিবারকে অংশীদার করে সামাজিক বনায়নের জায়গায় চারা রোপণ করা হয়। তার মধ্যে স্থানীয় আলী আহমদ, আবদুল মালেক, নুরুল আলম ফারুকী, নুর মোহাম্মদ, সোলেমান, নুরুস শফি, মোহাম্মদ কালু, হাবিব উল্লাহ, মোহাম্মদ কালু, আবদুস শুক্কুর ও হাসিনা বেগমকে ৫ হেক্টর করে জায়গা চুক্তিপত্রের আলোকে বরাদ্দ দেয় বনবিভাগ।
ভুক্তভোগী উপকারভোগী লোকজন জানিয়েছেন, চারা রোপণের পর বিগত ৮-১০ বছরে তাদের বনায়নের গাছগুলো অনেক বড় হয়েছে। ইতোমধ্যে গাছগুলো চুক্তি মোতাবেক বিক্রির সময় ঘনিয়ে আসলে বনায়নের অংশীদার নুরুস শফি একা প্রভাব বিস্তার করে আশপাশের বনায়নের অংশীদারদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে বনায়নের এসব জায়গার মাটি কেটে প্লট করে তা বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অভিযুক্ত নুরুস শফি স্থানীয়ভাবে দাপটশালী ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক হওয়ায় হামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না ভুক্তভোগী অংশীদাররা।
অংশীদাররা অভিযোগ করেছেন, জায়গা দখলের পর মাটি কেটে প্লট বিক্রি করার ঘটনাটি ইতোপূর্বে স্থানীয় বনবিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানো হলেও বনবিভাগ অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় বনায়নের অংশীদার উপকারভোগী লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বর্তমানে নিরুপায় হয়ে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্ততি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।