সাত জরিপে চূড়ানত্ম হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ২৫ নভেম্বর ঠিক হবে প্রার্থী তালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮ নভেম্বর মনোননয়পত্র দাখিলের শেষ দিন। ২৫ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ানত্ম হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা। তবে অনেক আসনে ২২ নভেম্বর প্রার্থী চূড়ানত্ম হয়ে যেতে পারে। আর এ লড়্গ্যে গত দুই বছর ধরে দেশি-বিদেশি সাত জরিপ সংস’ার রিপোর্ট, বিভিন্ন সময়ে দলীয় সভানেত্রীকে দেওয়া জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মতামত এবং জোটের হিসেব নিকেশ করে চলছে প্রার্থী চূড়ানত্ম করণের কাজ।
আওয়ামী লীগ অতীতে প্রার্থী চূড়ানত্মকরণে তৃণমূল থেকে প্রসত্মাবনা সংগ্রহ করতো। সেই প্রসত্মাবনার আলোকে সাড়্গাৎকারের ভিত্তিতে দলের প্রার্থী চূড়ানত্ম করা হতো বলে জানান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। কিন’ এবার বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর আদলে জরিপকে প্রাধান্য দিয়ে নির্ধারণ করা হচ্ছে চূড়ানত্ম প্রার্থী তালিকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কমিটির সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপস্নব বড়-য়া বলেন, ‘বিভিন্ন সংস’ার জরিপের পাশাপাশি জেলা নেতৃবৃন্দ অনেক সময় নেত্রীকে তথ্য দিয়েছেন। সেসব বিষয়গুলোও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।‘
জরিপে কোন ধরনের তথ্যকে বেশি গুরম্নত্ব দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বিপস্নব বড়-য়া বলেন, ‘জরিপে এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীর ইমেজ, জনপ্রিয়তা, বিপড়্গে কি কি রয়েছে এমন বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়েছে।’
দলের এই জরিপ পদ্ধতি প্রসঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে জরিপ পদ্ধতিতে প্রার্থী তালিকা চূড়ানত্ম হয়ে থাকে। আমাদের এখানেও এর প্রচলন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন সদস্য জানান, অনেক ড়্গেত্রে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি কারো উপর পড়্গপাতমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নতুন এই পদ্ধতিতে এর সুযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ২২৫ জন এবং সারাদেশের ৩০০ আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ২৩ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে গত বুধবার দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে এক সভাও করেছেন। সেই সভায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশে দিক নির্দেশনাও দেয়াও হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। প্রার্থী তালিকা বিষয়ে জানতে চাইলে বিপস্নব বড়-য়া বলেন, আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে সব আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ানত্ম হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন সমন্বয় উপ-কমিটির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের কাছে। তিনি বলেন, আমরা তৃণমূলের কর্মীদের মতামত জরিপের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছি, জোটের হিসেব নিকেশ প্রভৃতি কারণে আগামী ২২ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ানত্মকরণের কাজটি করতে পারবো। এরমধ্যে ২২ নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ঘোষণা হতে পারে।
তবে অপর এক সূত্রে জানা যায়, গত সংসদ নির্বাচনে জোটের মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ৬টি, জাসদ ৫টি, জেপি দুটি, তরিকত ফেডারেশন দুটি আসনে নির্বাচিত হয়। এবারের জোটে আসছে বি চৌধুরী নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট ও নাজমুল হুদা নেতৃত্বাধীন তৃণমূল বিএনপির পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও। বর্তমান সংসদে জাতীয় পার্টির ৩৪টি আসন রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে জোটের শরিকদের কোন কোন আসন দেয়া হবে এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কে হয় তাও বিবেচনার বিষয় রয়েছে। আর এসব বিবেচনা করে প্রার্থী চূড়ানত্ম করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী আগামী ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই ২ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং ভোট গ্রহণের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর।