সাতকানিয়ায় অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার হচ্ছে জমির টপসয়েল

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতকানিয়া

সাতকানিয়ায় দেদারসে কাটা হচ্ছে জমির টপ সয়েল। ফলে একদিকে দিন দিন কমে যাচ্ছে কৃষি জমি গুলোর উর্বরাশক্তি অপরদিকে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। কৃষিবিদদের মতে জমিতে ফসল উৎপাদনের উপযোগী মাটি হলো জমির উপরের অংশ। একবার যদি এ উপরিয়াংশ বা টপ সয়েল কেটে নিলে তা পূরণ হতে সময় লাগে ১৫-২০ বছর। জানা যায়, ইটভাটার ইট তৈরি, এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নতুন ও পুরাতন বসতভিটে ভরাট করার কাজে এ মাটি ব্যবহার করা হয়। জমির মালিকরা সামান্য টাকার লোভে একটি দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে আমন ধান কাটার পর থেকে বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা গরিব কৃষক ও জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে আবাদি জমির মাটি কিনে নিয়ে দেদারসে কাটতে থাকে। জমির মালিকরা টপ সয়েল বিক্রির কুফল সম্পর্কে না জানার কারণে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে নামমাত্র মূল্যে মাটি বিক্রি করে দেয়। প্রতি বছর বিশেষ করে ইটভাটার মৌসুম শুরু হওয়ার পর স’ানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র এক শ্রেণির দালালের মাধ্যমে জমির মালিকদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সাতকানিয়া উপজেলার সোনাকানিয়া,কেওঁচিয়া, ঢেমশা, ছদাহা, নলুয়া, খাগরিয়া, মাদার্শা, চরতি, সাতকানিয়া সদর, পশ্চিম ঢেমশা, এওচিয়া, মাদার্শা,ধর্মপুর এলাকার আবাদযোগ্য কৃষি জমিগুলো থেকে স্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে প্রতিদিন প্রায় শত শত ডাম্পারযোগে(মিনি ট্রাক) উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে।
উপজেলার বিভিন্ন স’ানে প্রায় শতাধিক ইটভাটা থাকায় এখানে ওইসব মাটির চাহিদা ও বেশি। ক্ষেত্র বিশেষে মাটির দালালরা ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে মাটির ব্যবসাও করে। জমির মালিকরা জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা অনেক সময় তাদের না জানিয়েও জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যায়। জমির মালিক কেওঁচিয়ার লিয়াকত আলী, ঢেমশার মো. ছালাম, সোনাকানিয়ার আবু তাহেরসহ আরো অনেকে জানান, তাদের জমির পাশ্ববর্তী মালিক তার ধানী জমির মাটি বিক্রি করে দিলে মাটি ব্যবসায়ীরা জমিগুলো থেকে ২০-৩০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে তাদের জমি উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে ধান চাষে সেচ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাশের জমির গভীর গর্তের কারণে আমাদের জমিতে ধস দেখা দিচ্ছে। ফলশ্রুতিতে জমিগুলো আবাদ অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীতে জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের কাছে ছুটে যাচ্ছে। জমির মালিকরা এভাবে মাটি বিক্রির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির আহমদ জানান, মৌলভির দোকান থেকে কেরানীহাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে টপ সয়েল কাটতে কাটতে বড় আকারের ডোবায় পরিণত হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা এস.এম. জহির জানান, ফসলি জমির টপ সয়েল হল জমির প্রাণ। ফসলি জমি থেকে টপ সয়েল কেটে নেয়ার ফলে আবাদি জমিগুলোর উর্বরাশক্তি দিন দিন হ্রাস পায়। ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির যে গুণাগুণ থাকা দরকার তার সবটুকুই থাকে উপরের অংশে। আর এ টপ সয়েল কেটে নিলে তা পূরণ হতে সময় লাগে অনেক বছর।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) দীপঙ্কর তংচজ্ঞ্যা বলেন, আমরা দু’য়েকদিন আগে একটা অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করেছি। তারপরও বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেনের মুঠোফেনে বারবার রিং করলেও তিনি রিসিভ করেননি।