সাজাপ্রাপ্ত ৪৪ আসামির আপিল গ্রহণ

সুপ্রভাত ডেস্ক

ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ৪৪ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে হাইকোর্ট। যারা আপিল করেছেন, তাদের মধ্যে মৃত্যুদ- এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ-প্রাপ্ত আসামি রয়েছেন। গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোসত্মাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এসব আপিল উপস’াপন করা হলে তা শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।
সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদ-সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা জেল আপিল করেছেন।
‘আদালত আজ তাদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে অর্থদ- স’গিত করেছেন। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের নথি তলব করেছেন। এখন মামলাটি শুনানির জন্য প্রস’ত হবে। এই আদালতে অথবা যেকোনো ফৌজদারী বেঞ্চেও শুনানি হতে পারে।’
চৌদ্দ বছর আগের ওই ঘটনার মামলায় গত বছরের ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রম্নত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ- দেয়।
রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদ-।
এছাড়া ১১ পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেন বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদ-প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদ- অনুমোদনের জন্য আবেদন) অনুমোদনের জন্য গত বছরের ২৭ নভেম্বর এ নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এদিকে রায়ের বিরম্নদ্ধে দ-প্রাপ্তরা জেল আপিল করেন।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজির সাবেক আমির ও ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোসত্মফা, মাওলানা শওকত ওসমান, মহিবুলস্নাহ ওরফে মফিজুর রহমান, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. উজ্জল, এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, হানিফ পরিবহনের মালিক বিএনপি নেতা মোহাম্মদ হানিফ।
পরিকল্পনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করার অভিযোগে দ-বিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যসত্ম করে তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যনত্ম ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করে আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্তরা হলেন- তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উলস্নাহ ওরফে জুয়েল, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার, মো. আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল ওরফে খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল ওরফে ইকবাল হোসেন, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু।
তাদের দ-বিধির ৩০২/১২০খ/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যসত্ম করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়।
এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) মো. আশরাফুল হুদা ও শহিদুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ডিজিএফআইয়ের মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন, ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দড়্গিণ) খান সাঈদ হাসান, আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোদা বক্স চৌধুরী, সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার মো. রম্নহুল আমিন, সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ, সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমানকে দুই বছর করে কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
আরেকটি ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রম্নহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদ- দেয় আদালত।