সাকিব-রাসেলের ব্যাটে জিতলো ঢাকা

সুপ্রভাত ক্রীড়া ডেস্ক

বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। ব্যাট হাতে এবারের আসরের প্রথম ফিফটি। ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ঢাকার জয়ের নায়ক সাকিব আল হাসান। টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে ডেভিড ওয়ার্নার সিলেটকে এনে দিয়েছিলেন লড়ার মতো রান। কিন’ ম্যাচ জেতানো অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে সাকিব ছাপিয়ে গেছেন ওয়ার্নার ও সিলেটকে। সিলেটের সর্বোচ্চ দুই স্কোরার ওয়ার্নার ও লিটন দাসের উইকেট দুটি নিয়েছেন সাকিব। পরে ৪১ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন দলের জয় সঙ্গে নিয়ে। বিপিএলে শুক্রবার সিলেট সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস।
পচাটের কারণে সিলেট পর্ব শেষে ফিরে যাবেন যিনি, সেই ওয়ার্নার ছাপ রেখে গেলেন আরো। তার ইনিংসের সৌজন্যেই ২০ ওভারে ১৫৮ পর্যন্ত যেতে পেরেছিল সিলেট। কিন’ সাকিবের ফিফটি আর শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেলের তাণ্ডবে ঢাকা জেতে ১৮ বল বাকি রেখেই।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেটের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। ঝড় তুলেছিলেন লিটন দাস, তবে আগের ম্যাচের মতো এবার আর বড় করতে পারেননি ইনিংস। লিটনের সঙ্গে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস শুরু করা সাব্বির রহমান আবারও ছিলেন নিষ্প্রভ। খবর বিডিনিউজ’র।
১৪ বলে ২৭ রান করা লিটনকে ফিরিয়ে জুটি ভেঙেছেন সাকিব। মন’র শুরুর পর সাব্বির পারেননি ইনিংস বড় করতে। ফিরেন ১৬ বলে ১১ রান করে। তৃতীয় উইকেটে আফিফ হোসেন ও ওয়ার্নার মিলে দলকে এগিয়ে নেন কিছুটা। সম্ভাবনাময় এই জুটি থামে ৪০ রানে। ১৭ বলে ১৯ রান করে আফিফ আউট হন অ্যান্ড্রু বার্চের বলে কিপার নুরুল হাসান সোহানের দারুণ ক্যাচে। সোহানের আরেকটি দুর্দান্ত ক্যাচে পরের ওভারে ফিরেন অলক কাপালী। নিকোলাস পুরানকে ৬ রানে বোল্ড করেন সুনিল নারাইন। ১৩ ওভারে সিলেটের রান তখন ৫ উইকেটে ৮৬। এক প্রান্তে টিকে থাকা ওয়ার্নার এরপর ভরসা পান জাকের আলির ব্যাটে। সিলেটেরই সন্তান এই তরুণ কিপার সঙ্গ দিয়ে গেছেন ওয়ার্নারকে। সময়ের সঙ্গে ওয়ার্নার বাড়ান রানের গতি। দুজনের জুটির পঞ্চাশ হয় ২৯ বলে।
ওয়ার্নার টানা দ্বিতীয় ও টুর্নামেন্টে তৃতীয় ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৭ বলে। শেষের আগের ওভারে আউট হন ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ বলে ৬৩ করে। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
খেলতে নেমে জাকের করেন ১৮ বলে ২৫।
ঢাকার হয়ে আসরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার অ্যান্ড্রু বার্চ নিয়েছেন ৩ উইকেট, তবে রান খরচ করেছেন ৪ ওভারে ৪২। অফ স্পিনার আলিস ইসলাম এক ওভার বল করেই মাঠ ছাড়েন চোট নিয়ে।
রান তাড়ার শুরুটা খুব ভালো না হলেও সাকিব ছিলেন বলেই ভুগতে হয়নি ঢাকাকে। ওপেনিংয়ে মিজানুর রহমান ফিরে যান মাত্র ১ রানেই। আরেক ওপেনার সুনিল নারাইন ফেরেন ১৩ বলে ২০ করে।
তিনে নেমে রনি তালুকদার যখন আউট হলেন, সিলেট তখনও ম্যাচে ছিল ভালোভাবেই। ঢাকার রান ছিল ৩ উইকেটে ৩৭।
সেই চাপ উড়ে যায় সাকিবের ব্যাটে। হ্জরতউল্লাহ জাজাইয়ের বদলে সুযোগ পাওয়া আরেক আফগান দারবিশ রাসুলি দারুণ সঙ্গ দেন অধিনায়ককে। চতুর্থ উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৭৫ রান।
১৫ বলে ১৯ রান করা রাসুলিকে ফেরান ইরফান। ম্যাচের শেষও তাতে তরান্বিত হয় আরও। রাসেল এসেই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে গুঁড়িয়ে দেন সিলেটের বোলারদের। ছক্কা মেরেছেন চারটি। তাসকিনের বলে পরপর দুটি বিশাল ছক্কায় বল ফেলেছেন স্টেডিয়ামের বাইরে, একটি বল আর ফেরতই পাওয়া যায়নি। ইরফানকে ছক্কায় বল ফেলেছেন গ্রিন গ্যালারিতে।
২১ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন রাসেল। দারুণ খেলেও ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারায় অনেকবারই আক্ষেপ করেছেন যিনি, সেই সাকিব এবার জয়ের স্বাদ পেয়েছেন উইকেটে থেকেই। ৮ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৪১ বলে ৬১ করে। ৬ ম্যাচে ৫ জয় নিয়ে ঢাকা থাকল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই। সমান ম্যাচে সিলেট হারল এই নিয়ে চারবার।