সাংবাদিকদের সঙ্গে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মতবিনিময়

দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে হুঁশিয়ারি ২৮ ফেব্রম্নয়ারির মধ্যে সম্পদের হিসেব দিতে হবে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ষ ভূমি অফিসে বসবে সিসি ক্যামেরা মনিটরিং মন্ত্রণালয় থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভূমিসচিব থেকে শুরম্ন করে পিওন পর্যনত্ম প্রায় দুলাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পদের হিসেব নেয়া হবে। আগামী ২৮ ফেব্রম্নয়ারির মধ্যে তাদের স’াবর ও অস’াবর সম্পদের হিসেব দিতে হবে। দেশের সব ভুমি অফিস সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে সব কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। মন্ত্রণালয়কে পুরো অটোমেশন পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসা হবে। পাঁচবছরে ভুমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে আসা হবে। দুর্নীতির বিষয়ে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর চট্টগ্রামে প্রথম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করলেন জাবেদ। এসময় মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করা ও জবাবদিহিমূলক সংস’া হিসেবে গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহগযোগিতা চান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেন। তখন বেশি অভিজ্ঞ ছিলাম না। সে সময়ও আমি গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেয়েছিলাম। সেসময় অনেকগুলো জটিল বিষয় ছিল যা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাসত্মবায়ন করতে পারিনি। দায়িত্ব নেয়ার পর অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছি। ভূমি মন্ত্রণালয়ে জটিলতা আছে। মানুষ হয়রানির শিকার হয়। এসব মাথায় রেখে মন্ত্রণালয়কে পুরো অটোমেশনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। তবে এটি বাসত্মবায়ন এখনও চ্যালেঞ্জ। অটোমেশন পুরোদমে হয়নি। এ অবস’ায় আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক এমপি ঢাকায় চলে যান। আমি চট্টগ্রামে দুদিন কাটিয়েছি। এসময় নেতাকর্মীরা প্রশ্ন করেছেন, কেন চট্টগ্রামে অবস’ান করছেন। তাদের বলেছি, আমি তদবিরে বিশ্বাস করি না। যেটা কপালে থাকে, সেটাই হবে। আমি কেন ঢাকায় দৌড়াব। আমি শপথ গ্রহণের দিন ঢাকায় যাব।’
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে আমাকে ফোন দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, স্যার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে পূর্ণমন্ত্রী করেছেন। আপনি শপথ নিতে আসুন।’ আমি অভিভূত হই।
সততার বিকল্প নেই বলে মনত্মব্য করে ভূমিমন্ত্রী জাবেদ বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছর চেষ্টা করেছি সুনামের সাথে কাজ করার জন্য। এ জায়গায় (ভূমি মন্ত্রণালয়) মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আমি জানি না, কতটুকু পেরেছি। আমাকে কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। আমাকে মহান নেত্রী পুরস্কৃত করেছেন। সুনাম ও সততার সাথে যাতে কাজ করতে পারি, সেই দোয়া চাই।’
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনেক দুর্নাম আছে মনত্মব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘নেত্রী আমাকে প্রথমবার যখন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন তখন আমার মধ্যে একটা চাপা ব্যথা ছিল। ছয় মাস পরে নেত্রীকে জিজ্ঞেস করি, আমাকে কেন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলেন? তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি গুরম্নত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। এখানে কিছু কাজ আছে।’
সব মন্ত্রণালয়কে ঘুরেফিরে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আসতে হয় উলেস্নখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে ভূমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে আসার চেষ্টা করব। জনগণ ধীরে ধীরে এর সুফল পাবে। সামনের দিনে অটোমেশন সিস্টেমের গতি ত্বরান্বিত হবে। এ মন্ত্রণালয়ের সচ্ছতা ও দড়্গতা বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের দুর্নাম কমে এসেছে। সচিবালয় সাজিয়েছি। কিছু ভালো অফিসার নিয়োগ দেয়ার জন্য দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিনই বলে এসেছি। এখনও মন্ত্রণালয়ের মাঠ পর্যায়ে প্রচুর সমস্যা আছে বলে মনত্মব্য করে জাবেদ বলেন, ‘এখন তো অনেক এসি-ল্যান্ড নিজেই সফটওয়্যার তৈরি করছেন। সচিব থেকে শুরম্ন করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বলেছি, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তি থাকলে দেন, আমি গ্রহণ করব।’
দেশের সব ভূমি অফিস, এসি-ল্যান্ড কার্যালয় সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে এসব অফিসের কার্যক্রম মনিটরিং করা হবে। সিসি ক্যামেরাগুলোয় ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেমও রাখা হবে। কারণ দুর্নীতির ব্যাপারে আমার জিরো টলারেন্স নীতি। যেসব কর্মকর্তার মধ্যে এখন সমস্যা আছে তাদের বলি, আপনারা কেটে পড়েন।’
নিজের চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই বলে উলেস্নখ করে মন্ত্রী জাবেদ বলেন, ‘এ মন্ত্রণালয় থেকে আমি সম্মান নিয়ে যেতে চাই। ব্যর্থতা নিয়ে যেতে চাই না। কারণ জবাবদিহিতা জনগণের কাছে। যে কোনো মানুষ প্রশ্ন করলে যেন জবাবদিহি করতে পারি।’
চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রিত্ব পাওয়া বাকি তিনজনের সাথে মিলেমিশে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জাবেদ বলেন, ‘চট্টগ্রামের জন্য আলাদা একটা হিসেব-নিকেশ তো আছেই।’ দলমত-ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য দরজা খোলা মনত্মব্য করে মন্ত্রী জাবেদ বলেন, ‘আমি আপনাদের সেবক হিসেবে থাকতে চাই’। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন মন্ত্রী।
এসময় উপসি’ত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস।