সাংগ্রাইয়ে সাঙ্গ বৈসাবি

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি

পুরনো বছরের গ্লানি আর দুঃখকেই পানির জলে ভাসিয়ে দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার মধ্য দিয়ে পাহাড়ে শেষ হয়েছে বর্ষবরণ ও বিদায়ের উৎসব বৈসাবি। গত বুধবার উৎসবের শেষ দিনে রাঙামাটি শহরের নারিকেল বাগানে সাংগ্রাইয়ের উৎসবে তরুণ-তরুণীরা একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে পুরনো বছরের সব দুঃখ, অবসাদ দুর করে নতুন বছরে নতুন জীবন গুরুর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আর এই জল উৎসবের মধ্য দিয়ে সাঙ্গ হলো পাহাড়ের সাংগ্রাই উৎসব। মারমাদের এই জল উৎসবকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শহরের নারিকেল বাগান এলাকায় পাড়ি জমাতে থাকে পাহাড়ের বসবাসকারী পাহাড়ি-বাঙালিরা। মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় এ সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইয়ে জলকেলি বা পানি উৎসব বলা হয়।মারমা সংস্কৃতি সংস’ার (মাসস) আয়োজিত জলকেলি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার।
রাঙামাটি মাসস’র সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ, রাঙামাটি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফারুক, সদর জোন কমাণ্ডার কর্ণেল রেদওয়ানুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়াসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। এসময় দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘ সাংগ্রাই মানে শান্তির বার্তা। পার্বত্য অঞ্চলের মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব জল খেলা। যেখানে তরুণ-তরুণীরা একে-অপরের গায়ে পানি ঢেলে পুরোনো বছরের বেদনার অবসান করে। আর এ উৎসব এখন শুধু মারমা সম্প্রদায়ের লোকেদের নয়, সকল জনগোষ্ঠির উৎসবে রূপান্তরিত হয়েছে। ধর্ম যার যার উৎসব হবে সবার।
এই উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ সভা শেষে অতিথিগণ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘণ্টা বাজিয়ে জলকেলি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর সকলে একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে সকল অবসাদ দূর করে দেয়। জলকেলি অনুষ্ঠানের পর মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহি গান ও নাচ পরিবেশন করা হয়। এ উৎসবে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আগত কয়েক হাজার মারমা নারী-পুরুষ একে-অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে উৎসব পালন করতে থাকে।প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে চাকমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠি শুরু করে বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা। আর গত বুধবার মারমা জনগোষ্ঠীর পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাহাড়ের সবচে বড় এই সামাজিক উৎসবটি।