বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর

সহযোগিতা ও উন্নয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে

সম্পাদকীয়

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম দুই দিনের সফরে ঢাকা এসেছেন। ‘বিশ্ব দারিদ্র্য বিমোচন বিদস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন।
গত দুই দশকে অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য ও অর্জন যথা-এ সময়ে দুই কোটিরও বেশি মানুষের দারিদ্র্য নিরসন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস’ান, মানব সম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ, সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য কমিয়ে আনা, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস’াপনা-এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি তিনি স্বচক্ষে দেখবেন।
নিম্নমধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং বাংলাদেশের গতিশীল অর্থনৈতিক সাফল্য বিশ্বের অনেক দেশেই আলোচিত হচ্ছে। বিশ্বের আগামীর ১১টি উদীয়মান দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এই কথাটি এখন পশ্চিমা অর্থনীতিবিদরা বলছেন।
বিশ্বব্যাংক আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। একসময় আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকে আমেরিকা-ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর যে একচেটিয়া আধিপত্য ছিলো তা এখন অনেকটা খর্ব হয়েছে। বিশ্বঅর্থনীতির বাস্তবতা, বিশ্ব অর্থনৈতিক – সামাজিক ফোরামগুলিতে পুঁজিবাদী দেশগুলির সমালোচনা, উন্নয়নশীল দেশগুলির উঠে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা এ বিশ্ব সংস’াগুলিকে তাদের শর্ত কিছুটা হলেও নমনীয় করতে বাধ্য করেছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আমাদের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তের কথাও উল্লেখ করেছেন, তিনি বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতির প্রত্যাশা করছেন।
এ বছর বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার পাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কয়েক বছর আগে পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ দেবে এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক অর্থ ছাড় থেকে সরে আসে, অবশ্য পরে দুর্নীতির অভিযোগ সত্য নয় প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে। এ নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে টানাপোড়েনও ছিল।
একথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে বাংলাদেশের দৃঢ় অর্থনৈতিক সাফল্যের মূলে রয়েছে কৃষি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সচ্ছলতা, রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা হ্রাস প্রভৃতি। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ৭ এর মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে হতদরিদ্রের সংখ্যা প্রায় ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে, গড় আয় ও গড় আয়ু বেড়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
দুই দিন আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এর বাংলাদেশ সফরে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ অংকের উন্নয়ন সহযোগিতার চুক্তি ও সমঝোতা হয়েছে।
ভারত, চীন, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশ ও এশিয়ার উদীয়মান দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের যে নব দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সামর্থ ও পররাষ্ট্র নীতির সাফল্য বহন করে।
খাদ্য উৎপাদন, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষতা, পরিবেশ সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এ সব বিষয়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার অর্জন করেছে। নারীশিক্ষা, পরিবেশ, স্যানিটেশন, নারীর ক্ষমতায়ন, মা ও শিশু স্বাস’্য, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে ভারত পাকিস্তানের চাইতে বাংলাদেশ এগিয়ে এ মত বিশ্বের নানা সংস’া ও অর্থনীতিবিদদের।
আমরা মনে করি ঢাকায় বিশ্বব্যাংক প্রধানের সফর, আলোচনা ও প্রত্যাশিত সাহায্য প্রতিশ্রুতি আমাদের উন্নয়নে ফলপ্রসূ অবদান রাখবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন