সিইউজে’র আলোচনা সভায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী

সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিইউজে’র আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী-সুপ্রভাত
সিইউজে’র আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী-সুপ্রভাত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চান না। গণমাধ্যম শৃঙ্খলবদ্ধ করতে চান না। গণমাধ্যমকে উন্মুক্ত করার জন্য সুশৃঙ্খলভাবে এই গণমাধ্যমের বিকাশকে সংরক্ষণ করতে চান। সে কারণে কতগুলো নীতিমালা প্রণীত হতে যাচ্ছে। ১৯৭৪ সনের যে আইনটি বিগত বিএনপি-জামায়াত বাতিল করেছিল, সেটিকে আবার পুনর্বহাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অচিরেই সেটি করা হবে।’
তিনি গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিউজে) আয়োজিত ‘সাংবাদিকদের মর্যাদা, শ্রম আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শুধুমাত্র গণমাধ্যমবান্ধব নেত্রী নন, সাংবাদিকদের অধিকার, সাংবাদিকদের মর্যাদা, সাংবাদিকদের রুটি রোজগারের প্রশ্নেও তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি একমাত্র প্রথম সরকার প্রধান যিনি সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে। চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা সেই কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে অতীতেও সহযোগিতা পেয়েছেন, ভবিষ্যতে সেখান থেকে আপনারা আপনাদের অধিকার পাবেন।’
বক্তব্যে ইকবাল সোবহান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সাংবাদিকদের জন্য আইন বিএনপি-জামায়াত সরকার রাতারাতি পরিবর্তন করে শ্রম আইনের অধীনে নিয়ে সাংবাদিকদের শ্রমিক বানিয়ে দেয়।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, টেলিভিশন সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের আওতায় আনা হবে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্যে নীতিমালা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সম্প্রচার নীতিমালার মধ্য দিয়ে শুধু সংবাদপত্রে নয়, ইলেকট্রনিক মিডিয়াকেও ওয়েজ বোর্ড গঠন করে এর অধীনে এনে বেতন স্কেল নির্ধারণ করার ব্যবস’া নেওয়া হবে। সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ডের বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সংবেদনশীলভাবে সেটি বিবেচনায় রেখেছেন। বিশেষ করে যখন সরকারি বেতন স্কেল ঘোষণা হয়েছে, তখন সংবাদপত্রের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করার যৌক্তিকতা অনেক বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। আশা করি যদি সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকি, আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারি, তাহলে আমাদের নবম ওয়েজ বোর্ডও গঠিত হবে এবং এর মধ্য দিয়ে সকল বৈষম্য ও সমস্যাগুলো সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো দূর করা সম্ভব হবে।’
দেশে যদি কোনো অশুভ শক্তি থাকে, গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ যদি না থাকে, সেখানে সাংবাদিকরা কোনো মর্যাদা পাবে না বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজকে যখন দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি, মৌলবাদী শক্তি আবার নতুন করে আমাদের স্বাধীনতার চেতনার উপর, আমাদের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত হানছে, তখন দেখি রাজনৈতিক স্বার্থে মিডিয়ার মধ্যেও বিভক্তি। এই বিভক্তি থেকে যদি আমরা নিজেদের উদ্ধার করতে না পারি, আমাদের সাংবাদিক পেশার মর্যাদা রাখতে পারব না।’
যখন দেশের সার্বভৌমত্বের ও স্বাধীনতার চেতনার ওপর আঘাত আসবে, তখন নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রশ্ন আসবে, যখন সাংবিধানিকভাবে দেশ পরিচালিত হওয়ার প্রশ্ন আসবে, সেখানে আমি নিরপেক্ষ থাকতে পারি না। সাংবাদিকরা ওয়ান-ইলেভেনের পক্ষ হয়ে যেতে পারে না। অসাংবিধানিকভাবে কোনো শক্তি যদি দেশে আমাদের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করতে চায়, তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কথা বলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘যখন দেখি আজকে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে সে বিচারের বিরুদ্ধে দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে থেকে যখন ষড়যন্ত্রের চক্রান্ত হচ্ছে, বিরোধিতা হচ্ছে, তখন সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি চেতনাকে শাণিত করে, ঐক্যের দুর্বলতাগুলোকে সরিয়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, দেশের গণতন্ত্র রক্ষার জন্য, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে, মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদরে বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার চেতনা বিরোধীদের বিরুদ্ধে, সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণমাধ্যমে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে গতকাল শনিবার দুপুরে সভার উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়েল উপাচার্য ড. অনুপম সেন।
তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের সাংবাদিকেরা পিছপা হন না। এ দেশে সংবাদপত্র প্রয়োজনের সময় বিরাট কাজ করেছে। আমাদের দেশে সাংবাদিকতার ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল। এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। তাই সাংবাদিকদের মৌলিক দাবি সরকার মেটাবে। অধিকারের আন্দোলন কখনো শেষ হয় না, চালিয়ে যেতে হয়।
সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, সিইউজের সাবেক সভাপতি অঞ্জন কুমার সেন, এম. নাসিরুল হক, প্রতিনিধি ইউনিট প্রধান সমীর কান্তি বড়-য়া। স্বাগত বক্তব্য দেন সিইউজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সিইউজের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন কমিটির আহ্বায়ক ড. সেকান্দর চৌধুরী, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিয়াজ মোরশেদ এলিট।

আপনার মন্তব্য লিখুন