সরকারের কাছে পুরনো প্রত্যাশা নতুন করে

লীনা পারভীন

টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। যার নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। দেশে-বিদেশে স্বীকৃতি পাওয়া এই নেতা তাঁর দৃঢ়তার মাধ্যমে ক্রমশই আমাদের আশান্বিত করে তুলছেন।
২০০৮ থেকে শুরম্ন করে সবচেয়ে লম্বা সময়ে সরকারে থাকার ইতিহাস এখন শেখ হাসিনার সরকারের। তবে এ দীর্ঘযাত্রায় কেবল সুখ্যাতি ছিল বা আছে তেমনটাও নয়। গত দুই টার্মে সরকারের সবচেয়ে বেশি যে বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল শিড়্গাখাত। শিড়্গা মন্ত্রণালয় এবং সংশিস্নষ্ট বিভাগগুলোর ক্রমাগত ব্যর্থতায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে আমাদের গোটা শিড়্গাব্যবস’া। প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যনত্ম ছড়িয়ে পড়েছিলো প্রশ্নফাঁসের ভাইরাস। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা যেন একপ্রকার অলিখিত চ্যালেঞ্জে নেমেছিল মন্ত্রণালয়ের বিরম্নদ্ধে।
প্রাথমিক ও জুনিয়র পর্যায়ে প্রচলিত পিইসি ও জেএসসি নিয়ে রয়েছে নানা সত্মরের ড়্গোভ। এ দুটি পরীড়্গার মাধ্যমে এ জাতি কতটা কী অর্জন করতে পেরেছে সে হিসাব হয়তো কোন দিন পাওয়া যাবে না। বরং অভিভাবক হিসেবে অনত্মত বলতে পারি, এ দুটি পরীড়্গা বাচ্চাদের মধ্যে শঙ্কা ও ভয়ের অবস’া তৈরি করতে সড়্গম হয়েছে। পরীড়্গার বেড়াজালে বাঁধাপড়া আমাদের সনত্মানেরা এখন আর পড়াশোনায় বিন্দুমাত্র উৎসাহ পায় না। আর এই উৎসাহহীনতা থেকে তারা উদাসীন হয়ে পড়েছে পরীড়্গার রেজাল্ট নিয়ে। উদ্বেগ যা আছে তার পুরোটাই অভিভাবকদের মধ্যে। এই উদ্বেগ থেকে অভিভাবকরাও জড়িয়ে পড়েছে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনার সঙ্গে।
শিড়্গার হার বাড়ছে কিন’ শিড়্গিতের হার কতটা বেড়েছে সে বিষয়টি ভাবতে গেলে অন্ধকারই কেবল দেখা যায়। জিপিএ ফাইভের প্রতিযোগিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এই জিপিএ ফাইভের মর্যাদা এখন শূন্যের কোঠায়। মুখে মুখে চলে কৌতুক। জিপিএ ফাইভ পাওয়া ছাত্ররা মন খুলে উদযাপন করতে পারে না।
একটা দেশের শিড়্গাব্যবস’াই হচ্ছে সে দেশের প্রকৃত মেরম্নদ-; অথচ আমাদের দেশের সেই মেরম্নদ-েই ঘুণে পোকার বাস শুরম্ন হয়েছিলো। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে খুশি করার জন্য পরিবর্তন আনা হয়েছিল স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যসূচিতে। প্রগতিশীল বাংলাদেশের মানুষের মাথায় সাম্প্রদায়িকতা ঢুকিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের বিরম্নদ্ধে রম্নখে দাঁড়িয়েছিলো গোটা দেশের মানুষ। যে গল্প কবিতাগুলো আমাদের বাচ্চাদের সামাজিক করে তুলতে পারতো, মানুষকে ভালোবাসতে শেখাতো, শিড়্গকের মর্যাদা রড়্গার শপথের পথে নিয়ে আসতো, সেগুলোকে সুকৌশলে ‘হিন্দুয়ানি’ ট্যাগ দিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি প্রশ্নপত্রেও সাম্প্রদায়িকতার প্রভাব আমরা দেখেছি।
শিড়্গা ব্যবস’ার অরাজকতার কাহিনি বলতে গেলে কলমের কালি ফুরিয়ে যাবে কিন’ তালিকা শেষ হবে না। তবে আজকের এই লেখা সমস্যার তালিকা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনও কাজই ভাবনাচিনত্মা ছাড়া করেন না। তিনি যা করতে চান সেটাই করে দেখান এবং সে কাজের মধ্যে এখন পর্যনত্ম ড়্গতিকর সিদ্ধানত্ম আসেনি। তার কিছুটা ঝলক আমরা দেখতে পেলাম সম্প্রতি মাওলানা শফীর করা মনত্মব্যের প্রতিক্রিয়ায়। যার ফলে হেফাজত নেতাদের মুখেও আজ নরম সুরে কথা শোনা যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের শিড়্গাকে যুক্ত করতে হবে শিড়্গা ব্যবস’ার সকল সত্মরে। তাই আমরা আশা করছি এবারের সরকার দুর্নীতির বিরম্নদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, ঠিক তেমনি শিড়্গা খাতকে আধুনিককরণের পথে সব বাধার বিরম্নদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করবেন। শিড়্গা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাম্প্রদায়িক ও স্বার্থান্বেষী মহলকে চিহ্নিত করে যথার্থ ব্যবস’া নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যনত্ম শিড়্গা ব্যবস’াকে ঢেলে সাজাতে হবে। সিলেবাসকে যুগোপযোগী করা ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন কেবল স্বপ্ন হয়েই থাকবে। শিড়্গার সঙ্গে আপস করে স্বাধীনতার স্বপ্নকে স’ায়ী করা প্রায় অসম্ভব। শিড়্গা নিয়ে ব্যবসা করা লোকগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে আইনের শাসনের প্রতি সরকারের প্রতিজ্ঞাকে আরও শক্ত করতে হবে। সরকারের বিরম্নদ্ধে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবহেলার অন্যতম একটি অভিযোগ, যে জায়গাটিকেও এবারে গুরম্নত্ব দেওয়া হয়েছে। বাসত্মবে একটি দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে অন্যতম পূর্বশর্ত। আইনের শাসন কায়েম হলে সমাজ থেকে যেকোনও অপরাধ এমনিতেই কমে আসে। প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা এর আগে কখনোই আইনের আওতায় আসেনি বলে দিনের পর দিন একই অপরাধ করে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞার ছোঁয়া দেখা গেছে নতুন মন্ত্রিসভার চমকে। অভিজ্ঞ ও অনভিজ্ঞ কিন’ দারম্নণ দেশপ্রেমে উজ্জীবিত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বল একদল লোকের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এবারের মন্ত্রিসভা। অভিজ্ঞতা না থাকলেও যার ভেতরে বাংলাদেশ বাস করে, তেমন লোকদের জন্য প্রশাসন চালানো এমন কোনও কঠিন কিছু নয়।