সরকারি হোল্ডিংয়ের বকেয়া গৃহকর দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি বিভিন্ন সংস’ার কাছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্তৃক দাবিকৃত বকেয়া গৃহকর আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন স’ানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান। এছাড়াও সরকারি সংস’াসমূহের বকেয়া গৃহকর পরিশোধের কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বৈঠকে চসিকের দাবিকৃত গৃহকর বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রতিনিধি আপত্তি উপস’াপন করেছেন। চসিকের বকেয়া গৃহকর বিষয়ে গত ২৭ জুন স’ানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের কার্যপত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়। গত ১৮ জুলাই এ কার্যপত্র হাতে পেয়েছে চসিক।

জানা যায়, সভার কার্যপত্রে সিদ্ধান্ত অংশে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিকট সরকারি বিভিন্ন সংস’া/দপ্তরসমূহের বকেয়া গৃহকর আগামী দুই মাসের মধ্যে পরিশোধপূর্বক স’ানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

সভার সিদ্ধান্তে অংশে স’ানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (নগর উন্নয়ন-১) আহ্বায়ক, চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব, সচিব ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ কমিটি বকেয়া গৃহকর পরিশোধের কার্যক্রম মনিটরিং ও প্রয়োজনে যেকোন সুপারিশ করবে।

সভার কার্যপত্র দেখা যায়, সভার সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম খান চসিকের নিকট বাংলাদেশ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ বকেয়া করের বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তখন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি লিয়াকত আলী খান জানান, চসিক হতে কর পরিশোধের বিলসমূহ নিয়মিত প্রদান করা হয় না। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে আরোপিত গৃহকরের হার বৃদ্ধির কারণ জানানো হয়নি। চট্টগ্রাম রেলওয়ের তালিকাভুক্ত হোল্ডিংয়ের বাইরে নির্মিত অবৈধ স’াপনাসমূহের বিপরীতে গৃহকর আরোপ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ‘বকেয়া গৃহকর পরিশোধে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও তার সংস’ার কর্মকর্তা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। বকেয়া গৃহকর হতে পরিশোধকৃত কর বাদ দিয়েই বর্তমান গৃহকর দাবি করা হয়।
সভার সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পক্ষ হতে জনগণকে প্রত্যাশিত মানের নাগরিক সেবা প্রদান করা যেমন প্রয়োজন, পাশাপাশি সেবা গ্রহণকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতেও গৃহকর নিয়মিত পরিশোধ অপরিহার্য।’
এ বিষয়ে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান সুপ্রভাত বাংলাদেশকে বলেন, ‘সভার সিদ্ধান্ত ১৮ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে, আশা করি, বকেয়া গৃহকর পাওয়া যাবে।’
সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়ের কাছে চসিকের প্রায় ১১২ কোটি টাকা গৃহকর পাওনা আছে।