সরকারি হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে

সুপ্রভাত ডেস্ক

দেশের সকল পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। এই উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে স্বাস’্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর করেন স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরুপ চৌধুরী। খবর বাংলাট্রিবিউনের।

সচিবালায়ে স্বাস’্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস’্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক উপসি’ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই চুক্তির আওতায় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যারা জীবন সায়াহ্নে বিভিন্ন জটিল রোগে আত্রান্ত, তারা দেশের সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অবসি’ত সকল পর্যায়ের সরকারি হাসাপাতাল বা সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। এছাড়াও দেশের ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন। সরকারের তহবিল থেকে বিশেষ করে দেশের হাট-বাজার ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে যে চার শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করা হয়, তা এই চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে। বর্তমানে ১ লাখেরও কিছু বেশি সংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা জীবিত আছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হলেও আগামীতে তা দুই লাখ টাকায় উন্নীত করা হবে।

হাসপাতালগুলোতে সরকারি ব্যবস’াপনায় থাকা সকল সুযোগ-সুবিধার বাইরে প্রয়োজন হলে এই বরাদ্দ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হবে। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোনও টেস্ট বা ওষুধের ব্যবস’া না থাকলে তখন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেই সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বরাদ্দ দেওয়া টাকা থেকে ব্যয় করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বরাদ্দ দেওয়া টাকা সোমবার (আজ) থেকে ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতালের নাম ছাড় দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জীবিত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অনুপাতে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও কাল থেকেই টাকা ছাড় দেওয়া হবে।’
স্বাস’্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্য সন্তান। সুচিকিৎসা পাওয়া তাদের অধিকার। আর এর ব্যবস’া করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’