‘সরওয়ার-তামিমের’ অনুসারী ১০ জঙ্গি পুলিশের রিমান্ডে

সুপ্রভাত ডেস্ক

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধ জেএমবির ‘তামিম-সরোয়ার’ গ্রুপের সন্দেহভাজন ১০ সদস্যকে আশুলিয়া থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। খবর বিডিনিউজ।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম ফায়রুজ তাসনিম গতকাল মঙ্গলবার এই দশ আসামির হেফাজত মঞ্জুর করেন।
এরা হলেন- উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের লাইফ স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম (৪৬), তার ভাগ্নে ও স্কুলের সাবেক পরিচালক জিয়াউর রহামন (৩১), বর্তমান অধ্যসক্ষ মো. মিজানুর রহমান (৪৩), আবু সাদাত মো. সুলতান আল রাজি ওরফে লিটন (৪১), আল মিজানুর রশিদ (৪১), জান্নাতুল মহল ওরফে জিন্নাহ (৬০), মো. কৌশিক আদনান সোবহান (৩৭), মেরাজ আলী (৩০), মুফতি আবদুর রহমান বিন আতাউল্লাহ (৩৭) ও মো. শাহরিয়ার ওয়াজেদ খান (৩৬)।
এদের মধ্যে জান্নাতুল মহলকে দুই দিনের এবং বাকিদের চার দিন করে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয় বলে ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান।
গত রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুরের মধ্যে ঢাকার উত্তরা ও কলাবাগান এলাকা থেকে ওই দশ জনকে গ্রেফতার করে র্যা ব।
র্যা বের ভাষ্য, তাদের তিনজন ধর্মভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের একটি স্কুল পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। লাইফ স্কুল নামের ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে আসলে জঙ্গি দলের জন্য সদস্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যা ব- ৪ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার উলু মং দশ আসামিকে আদালতে হাজির ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
অন্যদিকে আসামি মুফতি আবদুর রহমান বিন আতাউল্লাহ ও জান্নাতুল মহলের পক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী আবুল কাশেম।
শুনানি শেষে আদালত নারী জঙ্গিকে দুদিন ও বাকিদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত বছরের ৮ অক্টোবর ঢাকার আশুলিয়ার এক বাড়িতে র্যা বের অভিযানের সময় পাঁচতলা থেকে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়। পরে র্যা ব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ওই ব্যাক্তির প্রকৃত নাম সারোয়ার জাহান। তিনি জেএমবির শীর্ষনেতা।
পুলিশ কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, আশুলিয়ার ওই অভিযানের সময় এই ১০ জন ওই বাড়ির আশপাশে ছিলেন বলে ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
র্যা বের ভাষ্য, ওই ঘটনায় নিহত সারোয়ার জাহানই শায়খ আবু ইব্রাহীম আল হানিফ নামে জেএমবির নতুন একটি অংশকে সংগঠিত করে আমিরের দায়িত্ব নেন। তবে পুলিশের দাবি, সারোয়ার ছিলেন জেএমবির তৃতীয় সারির নেতা।
সরোয়ার নিহত হওয়ার আগে ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় এক জঙ্গি আস্তনায় অভিযানে নিহত হন তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ তিনজন। তামিমকেই নব্য জেএমবির মূল ব্যক্তি বলে আসছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেএমবির এই গ্রুপকেই গুলশান ও শোলাকিয়াসহ সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলাগুলোর অধিকাংশ ঘটনায় দায়ী করে আসছে। এই অংশটিকে পুলিশ বলছে ‘নব্য জেএমবি’, র্যা ব বলছে সারোয়ার তামিম গ্রুপ।

আপনার মন্তব্য লিখুন