শিল্পকলা একাডেমি কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন

সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায়

আজিজুল কদির

শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচনের এখনো তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তারপরও উৎসাহী প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। মোবাইলে এসএমএস, সোশাল মিড়িয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। প্রতিষ্ঠার প্রায় চল্লিশ বছর পর আগামী জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন।
রমজানের আগে অনুষ্ঠিত শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় আগামী ১ জুলাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ২১ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এরই মধ্যে প্রার্থীদের স্ব স্ব পদ উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট করতে দেখা যায়। সেখানে তারা শুভেচ্ছা জানিয়ে চট্টগ্রাম শিল্পকলার উন্নয়নে ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে ভোট চাচ্ছেন।
কাউকে দেখা যায় পোস্টারের মতো ডিজাইন করে ফেসবুকে কিংবা অন্য মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনের আগে এমন প্রচারণা কতটা বিধিসম্মত, কেউ-কেউ প্রশ্নও তুলছেন। একজন সদস্য অনুপম শীল বলেন, প্রচারণাটা বিধিসম্মত হওয়া উচিত। কখন থেকে প্রচারণা শুরু করতে পারবে তার একটা সঠিক নির্দেশনা দেওয়া উচিত। তবেই নির্বাচন সুষ্ঠু-সুন্দর হবে।
এ ব্যাপারে জেলা নির্বাচন অফিসার মুনির হোসেন খান জানান, যেহেতু এখনো তফসিল ঘোষণাা করা হয়নি, তাই এটাকে এখন সহজভাবে দেখছি। যখন তফসিল ঘোষণাা করা হবে তখন এটি বিধিসম্মত হচ্ছে কিনা তা নজরে রাখব। আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে ব্যবস’া নেওয়া হবে।
এদিকে গত চার বছর ধরে ৫ সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি দিয়ে চলছিল শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের কর্মকাণ্ড। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমে শিল্পকলা একাডেমির পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির ওপর ন্যস্ত করার কথা থাকলেও ২০০২ সাল থেকে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম চলছে কখনও তিন সদস্য বা কখনও পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি দিয়ে। ২০১৪ সালে সর্বশেষ অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বর্তমান অ্যাডহক কমিটিতে অছেন সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, সদস্যসচিব একাডেমির কালচারাল অফিসার মোসলেম উদ্দিন শিকদার লিটন। অপর তিন সদস্য হচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু ও নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু।
সূত্র মতে, ২০১৫ সালের শেষ দিকে শিল্পকলা একাডেমির অ্যাডহক কমিটির অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদ করে একজন নাট্যকর্মী ১৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি গঠনের দাবি তুললে কার্যকরী কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা শুরু করে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালের মে মাসের ৩০ তারিখ জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত দুটি পত্রিকায় চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির সদস্যভুক্তির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেবার ১২৫ জনকে সদস্যভুক্ত করা হয়। তবে সদস্যভুক্তি নিয়ে অ্যাডহক কমিটর ওপর আবার অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের বাদ দিয়ে সদস্যভুক্ত করার অভিযোগে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফীন সদস্যভুক্তির জন্য দ্বিতীয়বার বিজ্ঞপ্তি দেন। পরবর্তী সময়ে ছয়শ’র অধিকজনকে সদস্য করা হয়।
গঠনতন্ত্র অনুসারে কার্যনির্বাহীর কমিটির নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাহী কমিটি গঠন হবে ১৫ জন সদস্য নিয়ে। এদের মধ্যে সভাপতি ১ জন, সহ-সভাপতি ২ জন, সাধারণ সম্পাদক ১ জন, যুগ্ম সম্পাদক ২ জন, কোষাধ্যক্ষ ১ জন ও নির্বাহী সদস্য ৮ জন থাকার বিধান রয়েছে।
কার্যনির্বাহীর কমিটি নিয়ে মোসলেম উদ্দিন শিকদার জানান, পদাধিকার বলে কার্যনির্বাহী কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি ও কালচারার অফিসার কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করবেন। সহ-সভাপতি-২ জন, সাধারণ সম্পাদক-১ জন, যুগ্ম সম্পাদক-২ জন ও পাঁচজন নির্বাহী সদস্য ভোটের মাধ্যমে নিবাচিত হবেন। বাকি তিন সদস্য জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত হবেন। তবে এর মধ্যে সহ-সভাপতি ২ জন, সাধারণ সম্পাদক ১ জন, যুগ্ম সম্পাদক ২ জন ও নির্বাহী সদস্য ৫ জন সরাসরি সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচনকে শুভ উদ্যোগ ও সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।