সমুদ্রের দূরত্ব কেন নটিক্যাল মাইলে বলি?

সম্পাদকীয়

আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে আমাদের দাবি অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে আমরা ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকার অধিকার পেয়েছি। প্রশ্ন ওঠে, মাইল না বলে কেন নটিক্যাল মাইল বলছি? এর কারণ হলো, প্রাচীনকালে জাহাজের গতি বের করার জন্য সমদূরত্বে গিট্টু (নট) বাঁধা দড়ি ব্যবহার করা হতো।
দড়ির এক মাথায় একটি কাঠের খণ্ড বেঁধে চলন্ত জাহাজ থেকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতো। দড়ির আরেক মাথা থাকত জাহাজের নাবিকের হাতে। জাহাজ চলত আর তিনি দড়ি ছাড়তেন। কত সময়ে কয়টি নট পার হচ্ছে তা গণনা করে জাহাজের গতি বের করা হতো। এই নটের সঙ্গে অবশ্য নটিক্যাল মাইলের সম্পর্ক নেই।
নটিক্যাল মাইল পৃথিবীর পরিধির সঙ্গে সম্পর্কিত। ধরা যাক বিষুবরেখা একটি বৃত্ত। পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে এটা ৩৬০ ডিগ্রি কোণ তৈরি করে।
বিষুবরেখার দৈর্ঘ্যকে ৩৬০ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ডিগ্রি কৌণিক দূরত্ব পাওয়া যায়। একে ৬০ দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যাবে এক মিনিট কৌণিক দূরত্ব। এটাই নটিক্যাল মাইল। এটা এক মাইলের চেয়ে সামান্য বেশি, প্রায় ১,১৫০৮ মাইলের সমান। অন্যভাবে বলা যায়, এক মাইলে ১৭৬০ গজ, আর এক নটিক্যাল মাইলে ২০২৫ গজ।