‘সমাজ পুনর্গঠনে আজও প্রাসঙ্গিক ম্যাক্সিম গোর্কি’

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতাবাদের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হিসেবে গোটা বিশ্বে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ম্যাক্সিম গোর্কির অবিস্মরণীয় উপন্যাস ‘মা’। কারখানা কর্তৃপক্ষের নিয়মের অধীনে সেখানকার মানুষের বিষাদে ভরা যাপিত জীবন বস’নিষ্ঠভাবে প্রতিফলিত হয়েছে এ উপন্যাসে। মাত্র ১১ বছর বয়সে এতিম হয়ে দারিদ্র্য, বঞ্চনা, অসহায়-অনিশ্চিত পরিবেশে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে বড় হয়ে উঠা ম্যাক্সিম গোর্কির সাহিত্যে প্রতিফলিত হয় সমাজ ও জীবনের অন্ধকার তুলে ধরার এক অদ্বিতীয় প্রয়াস। সমাজ রূপান্তর ও পুনর্গঠনে এ ধরনের মহৎ লেখকেরা তাই আজও ব্যাপকভাবে প্রাসঙ্গিক।

গতকাল শনিবার নগরীর ফুলকি স্কুলের এ কে খান স্মৃতি মিলনায়তনে ম্যাক্সিম গোর্কির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘চিন্তাচর্চা’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ভাষা ও লোকসংস্কৃতি গবেষক ড. মাহবুবুল হকের সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক সুভাষ দে। আলোচনা করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, কবি হাফিজ রাশিদ খান ও কবি কমলেশ দাশগুপ্ত।

সভায় আবুল মোমেন বলেন, অন্যায়-শোষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ মানুষের এক চিরায়ত সত্তার প্রকাশ। সর্বকালেই নিজেকে ছাপিয়ে ওঠে মহত্ব প্রকাশ করবার মত সাহস তরুণদের মধ্যেই থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলনসহ সকল গণআন্দোলন এই সাহসী সত্তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে। তরুণদের এই চেতনা যেন বিনষ্ট না হয় সেই শিক্ষা আমরা ম্যাক্সিম গোর্কির কাছ থেকে নিতে পারি। গোর্কিকে আজকের দিনে স্মরণ করবার প্রাসঙ্গিকতা এখানেই। আমাদের তরুণেরা এরকম কিছু রসদের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তাই গোর্কির মত মহৎ লেখকদের সাথে তাদের পরিচয় করাতে হবে।

কবি হাফিজ রাশিদ খান বলেন, ম্যাক্সিম গোর্কি নানা দিক থেকে জীবনের প্রতি আলো ফেলেছেন। গভীর সংবেদনশীল লেখক হিসেবে বিগত শতাব্দীতে তাঁর মতো শিল্পীর আত্মপ্রকাশ এক অভাবনীয় ঘটনা।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন চিন্তাচর্চার সদস্য সচিব, সাংবাদিক মুহাম্মদ শামসুল হক।