সমর্থকদের হতাশ করলো চিটাগং ভাইকিংস

নিজস্ব প্রতিবেদক

নভেম্বর ২৫। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর রাজশাহী কিংস, দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংসের সাথে লড়াই রংপুর রাইডার্সের। প্রথম খেলার আগেই গ্যালারি ভর্তি, দর্শক গলা ফাটালেন কুমিল্লার হয়ে। কারণ ঘরের ছেলে তামিম তো এবার এই দলেরই অধিনায়ক। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে থাকা মাশরাফির দল রংপুরের সমর্থকও কম নয়।
তামিম, মাশরাফি বা ‘কালা পাহাড়-সাদা পাহাড়’ আদুরে নামে ডাকা গেইল-ম্যাককালাম না থাকলেও ঘরের দল ভাইকিংসের কাছে প্রত্যাশা কম ছিল না সমর্থক-দর্শকদের। কিন্তু হতাশ হতে হলো তাদের।
প্রতিযোগিতায় আর ফেরা হলো না, ক্রমাগতভাবে সমর্থক-দর্শকদের হতাশই করে গেল ভাইকিংস। ১২ ম্যাচে মাত্র তিনটিতে জয় ও বৃষ্টির কারণে একটিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থেকেই শেষ হলো চিটাগং ভাইকিংসের বিপিএল। সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম তিন ভেন্যুতেই কিছু না কিছু পরিবর্তন ছিলো উইকেট কন্ডিশনে। কিন্তু কোনো কন্ডিশনেই সুবিধা করতে না পেরে দলটি বুঝিয়ে দিলো আসলেই বাকিদের সাথে লড়াই করার শক্তি ছিলো না তাদের।
আগের চার আসরে অবশ্য খুব বেশি সুবিধা করতে পারেনি চিটাগং। তবে দল গোছানোতে খুব বেশি পিছিয়ে ছিলো না তারা। কিন্তু এবারে সবদিক থেকেই ব্যর্থ বলা চলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে। টুর্নামেন্ট শুরুর মাসখানেক আগে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যখন মাঠে নেমেছিলো ক্রিকেটার টানতে, সেখানে যোজন পিছিয়ে ছিলো ভাইকিংস। এমনকি ঘরের ছেলে তামিমকেও ধরে রাখতে পারেনি। ভক্ত-সমর্থকদের হতাশাটাও এখানে। বিষয়টি নিয়ে হতাশ সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। নিজ শহরে দলের এমন দূরাবস্থা মেনে নিতে পারছেন না। দলের পিছিয়ে পড়ার পিছনে লোকাল ক্রিকেটারদের সম্পৃক্ত না করাটাকেই প্রধান কারণ মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভাইকিংস দল গোছানোতেও বিচক্ষণতা দেখাতে পারেনি। ক্রিকেটার বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও তারা স্থানীয়দের উপর নজর দেয়নি। চট্টগ্রামের অনেক সাবেক ক্রিকেটার আছেন। কিন্তু তাদের তারা সেভাবে সম্পৃক্ত করেনি দলের সাথে। বিষয়টি আসলেই হতাশার।’
টুর্নামেন্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে বিসিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে, সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতায় লড়াই করার মতো দল করতে পারেনি চিটাগং। যার ফলে টুর্নামেন্টের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও খুব বেশি জমেনি বলে মনে করেন আকরাম খান। পরবর্তী বোর্ড সভায় এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান এই বোর্ড পরিচালক।
মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ছিলেন চিটাগং ভাইকিংসের উপদেষ্টা। তিনি অবশ্য মনে করেন দল খুব বেশি দুর্বল হয়নি। কিন্তু মাঠে নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করতে না পারাতেই দল ভালো করতে পারেনি। আর ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্বাধিকারী আব্দুল ওয়াহেদ দুষছেন ভাগ্যকে। তিনি বলেন, ‘দেখুন আমরা চেষ্টা করেছি, যাদের নিয়েছি তারা ভালো ক্রিকেটার না এটা বলার সুযোগ নেই। হয়তো আমরা সবাই একসাথে জ্বলে উঠতে পারি নি। তবে দল খারাপ মোটেও ছিলো না।’
কর্তৃপক্ষ যতোই বলুক ভক্ত-সমর্থকরা তা মানবেন কেন?