‘ড্যাপ’ সামনে রাখুন, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন

সমন্বিতভাবে কাজ করুন

নগরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। নগরীর মানুষকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ এবং কয়েক দশকের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রণীত ৫ হাজার ৬শত ষোল কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কর্তৃপক্ষকে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
আমরা মনে করি, কোনরূপ রশি টানাটানি না করে মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করবে, অতীতের মতো একতরফা কাজ করলে প্রকল্প থেকে সুফল পাওয়া যাবে না।
মহেশ খালের ওপর বাঁধ নির্মাণ ও পরে তা অপসারণ, নগরীর খালগুলির ওপর অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ নির্মাণ করে খালের প্রশস্ততা সংকীর্ণকরণ, চাক্তাই খালের ওপর কম উচ্চতায় ৩টি ব্রিজ নির্মাণ যা পণ্যবাহী নৌকার সহজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে, আগ্রাবাদে বক্স কালভার্ট নির্মাণজনিত জটিলতা এসব কাজের কুফল নগরবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।
অনভিজ্ঞভাবে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, প্রকৃতি ও পরিবেশের স্বাভাবিক ধর্ম বিবেচনায় না আনা, নগরীর সেবা সংস্থাগুলির অবহেলা, কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থতা ও যথাযথ নজরদারির অভাবে নগরবাসী বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার অভিশাপে জর্জরিত হয়েছে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধতায় অনেকটা অবরুদ্ধ থেকেছে নগরজীবন।
এবার প্রকল্প প্রণয়নে নগরীর অভ্যন্তরে প্রবাহিত খালগুলির মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি সবিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একসময় নগরীতে ৭০টি খাল ছিল, এর অনেকগুলি এখন বিলুপ্ত হয়েছে। অবশিষ্ট খালগুলি অবৈধ দখল, ভরাট, সংকোচনে জীর্ণশীর্ণ হয়েছে ফলে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক মাধ্যম অনেকটা রুদ্ধ হয়েছে।
নগরীর খাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের। বছরের পর বছর এই খালগুলির ওপর অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে, ময়লা, আবর্জনায় ভরাট হয়েছে খাল; সিটি কর্পোরেশন কোন প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেনি, অতীতের মেয়রগণ এখন নানা পরামর্শ দিচ্ছেন কিন্তু খালগুলির বেআইনি দখল কিংবা সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পানিপ্রবাহের এই প্রাকৃতিক মাধ্যম যে দুর্দশায় উপনীত হয়েছে সেটি তারা বলছেন না। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে প্রধান করে একটি কমিটি করা হয়েছে। এটি আশার কথা।
নগরবাসী আশা করে, আগামী বর্ষার আগেই কিছু কাজ দৃশ্যমান হবে, সুতরাং এখন থেকেই রোডম্যাপ প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ‘ড্যাপ’ সামনে রাখুন, বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিন এবং সমন্বিতভাবে কাজ করুন, তা হলে নগরবাসী আশায় বুক বাঁধবে।