পাঁচ ইস্যুতে চসিকের তৃতীয় সমন্বয় সভা আজ

সভা হয়, সমন্বয় হয় না

মোহাম্মদ আলী

‘সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সেবাপ্রদানকারী সংস’া ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি দফতরসমূহের মধ্যে সমন্বয়’ করতে ২০১৬ সালের ২৭ জুন একটি পরিপত্র জারি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর ফলে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সংস’ার মধ্যে সমন্বয় করার দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন। পরবর্তী সময়ে কোন সংস’া পরিপত্রের আলোকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শৈথিল্য প্রদর্শন করলে তা জানাতে চসিককে স’ানীয় সরকার বিভাগ থেকে আরও একটি একটি চিঠি দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির। আগের পরিপত্রের আলোকে ইতিমধ্যে দুটি সমন্বয় সভাও করেছে চসিক। পরিপত্র জারির আগেও নিজ উদ্যোগে দুটি সমন্বয় সভার আয়োজন করেছিলেন মেয়র। সেসব সভায় সেবাসংস’াগুলো উন্নয়ন কাজে সমন্বয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। এরপরও চট্টগ্রাম নগরের সেবাসংস’াসমূহের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দৃশ্যমান রয়েছে। এ অবস’ায় আজ রোববার তৃতীয়বারের সেবা সংস’াগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সভার আয়োজন করেছে চসিক। সভায় উপসি’ত থাকার জন্য গত ১৪ জুন বিভিন্ন সংস’ার প্রধানদের চিঠি দিয়েছেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা।
সামুদ্দোহা সুপ্রভাত বাংলাদেশকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিপত্রের আলোকে পাঁচ ইস্যুতে সেবাসংস’াগুলোর সাথে একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১১টায় নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করবেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। ইতিমধ্যে পাঁচ ইস্যুর সাথে জড়িত সিডিএ, ওয়াসা, পিডিবি, টিঅ্যান্ডটি, কর্ণফুলী গ্যাস, বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিএমপিসহ প্রায় ১৪-১৫টি সেবাসংস’ার প্রধানকে সভায় উপসি’ত থাকার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
মো. সামসুদ্দোহা বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরে উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন সংস’ার মধ্যে সমন্বয় হচ্ছে না। বৃষ্টির মধ্যেও একটার পর একটা সংস’া রাস্তা কাটছে। সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, বিভিন্ন সংস’া কর্তৃক রাস্তা কর্তন, নগরীতে বাস ও ট্রাক টার্মিনাল স’াপন, বিআরটিএ’র অনুমোদনবিহীন গাড়ি চলাচলের ফলে যানজট এবং পাহাড় ব্যবস’াপনা বিষয়ে আলোচনা হবে।’
চসিক থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চসিকের সম্মেলন কক্ষে নগরীর সেবাসংস’া ও সরকারি দফতরের প্রধানদের সঙ্গে প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২৩ মে দ্বিতীয় সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বারবার সভা করা হলেও সংস’াসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের অগ্রগতি খুব একটা হয়নি। দেখা গেছে, প্রতিটি সভায় পূর্বের সমস্যাগুলোই আবার চিহ্নিত করা হয়। আগের দুটি সভায় সিডিএ, রেলওয়েসহ উপসি’ত হননি বেশ কয়েকটি সংস’ার প্রধানগণ। ফলে কার্যকর হয়নি সভার কোনো সিদ্ধান্ত। উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হলে চসিকের অনুমতি লাগবে, এমন সিদ্ধান্তও সভা থেকে দিয়েছিলেন সভার সভাপতি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সে সিদ্ধান্ত সেবাসংস’াসমূহের প্রধানদের কানে পৌঁছায়নি। এর ফলে সিটি করপোরেশন সড়ক সংস্কার করে গেলে সেখানে ওয়াসা কিংবা বিটিসিএল খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করে। সিডিএ সড়ক নির্মাণ করলেও তা চসিককে বুঝিয়ে দেয় না। সিডিএ ফ্লাইওভারসহ বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও পরিবেশ অধিদফতর থেকে তার অনুমোদন নেয় না। এর সঙ্গে আছে সড়কের ওপরই অপরিকল্পিত বিদ্যুতের খুঁটিও।
এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরে সংবাদ সম্মেলন করে সেবাসংস’াগুলো চসিকের সাথে সমন্বয় করছে না বলে অভিযোগ করেছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। একই বিষয়ে স’ানীয় সরকার মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি দাপ্তরিক চিঠিও দিয়েছিলেন মেয়র।
জানা যায়, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় একই ধরনের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে চসিক ও সিডিএ। এখানেও সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা যায়। অনুমোদন পায় সিডিএ’র প্রকল্প। এর ফলেও সিডিএ ও চসিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতিবছরের মতো কাজ শুরু করেও সিডিএ’র প্রকল্পের সাথে দ্বৈততা হতে পারে এমন চিন্তা থেকে কাজ আবার বন্ধ করে দেয় চসিক। অন্যদিকে, বর্ষার আগেও প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারেনি সিডিএ। এ অবস’ায় বর্ষা শুরুর প্রথম বর্ষণেই পানিতে ডুবে যায় চট্টগ্রাম মহানগরীর কোনো কোনো এলাকা। এছাড়াও মেয়রের পরিকল্পনা অনুযায়ী হকারদের আংশিক শৃঙ্খলায় আনা গেলেও সিএমপি’র সাথে সমন্বয়ের অভাবে যানজট নিরসনে কোনো উন্নতি হয়নি। হকাদের ছেড়ে যাওয়া জায়গা দখল করেছে বাস-সিএমজি অটোরিকশা, রিকশা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৭ জুন জারি করা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত ওই পরিপত্রে বলা হয়েছিল, ‘সিটি করপোরেশনের অধিক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস’া ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের প্রধানগণ সিটি করপোরেশনের আমন্ত্রণে সভায় যোগদান করতঃ সভায় গৃহীত সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি সিটি করপোরেশনকে অবহিত করবেন’।