সব হারানোদের ঠাঁই খোলা আকাশের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর চাক্তাই ভেড়া মার্কেটের পেছনের বস্তিতে আগুন লেগে গত রোববার দুশ’র অধিক পরিবার সব হারিয়ে রাস্তায় বসেছে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে নয়জন। আর যারা বেঁচে আছে তারাও হারিয়েছে জীবনের সব সঞ্চয়। সব হারানো মানুষগুলোর গত রোববার দিবাগত রাতে ঠাঁই হয়নি কোথাও। থাকতে হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। সাথে চলেছে অস’ায়ী রাত কাটানোর ব্যবস’া। অনেকের জুটেনি রাতের খাবারও।
গতকাল অগ্নিকাণ্ডস’লে গিয়ে দেখা যায়, সর্বনাশা আগুনে পুড়ে যাওয়া নিম্নআয়ের মানুষগুলো গত রোববার রাতে আকাশের নিচে ত্রিপল টাঙিয়ে বা তাঁবু খাটিয়ে রাত কাটিয়েছে কোনো রকমে। ভাগ্যে জুটেনি কোনো অনুদানের পণ্যও। সহায়-সম্বল হারিয়ে নির্বাক হয়ে কোনো রকমে সন্তানাদি নিয়ে রাত কাটালেও চিন্তার ভাঁজ কপালে ওদের, কী হবে সামনের দিনগুলোতে!
কথা হয় আলী আকবর নামের দিনমজুরের সাথে। সারাদিনের উপার্জনের অর্থে পরিবার চালানো আর মাস
শেষে বাসার ভাড়া পরিশোধে হিমশিম খেতে হতো তাকে। গত রোববার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে তার সব জিনিসপত্র। কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়েছেন পরনের কাপড় নিয়ে। কিছু বের করতে পারেনি। নিম্ন আয়ের এই মানুষটি শেষ আশ্রয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে।
এখনও পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া বস্তিতে এসে অনেকে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে দেখছেন, তাদের সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া আগুনের থাবার চিহ্ন। অনেকে করছেন রাতের ভয়াবহ আগুনের বিষয় নিয়ে নানা কানাঘুষা। তাদের দাবি, রাতে কে বা কারা মুখোশ পরে এসে সব শেষ করে দিয়েছে তাদের।
আমরা তো কারো সাথে কোনো ভাগে নেই। তবুও কেন এভাবে আমাদের সর্বস্বান্ত করা হল, প্রশ্ন আকবরের।
আকবরের মতো অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে ত্রিপলে অবস’ান নিয়েছে। সিটি করপোরেশন তিনদিন খাবার ব্যবস’া করলেও পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো ব্যবস’া নেয়নি। তাই শেষ আশ্রয় এই বস্তিতেই মানবেতার দিন যাপন করছে এসব খেটে খাওয়া মানুষেরা।
বস্তির একমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বী আঞ্জু অভিযোগ করে বলেন, গত রোববার ও সোমবার অনেকে এসেছেন আমাদের সাহায্য করার জন্য। লুঙ্গি ও শাড়ি পেলেও আমার শিশুটির জন্য কোনো কাপড় পাইনি। তার বাবা রিকশা চালাতে গেছে, তাই মেয়র নাকি টাকা দিয়েছে, সেটাও পাইনি। রাতে ঠান্ডার মধ্যে আমার বাচ্চাটা ঘুমাতে পারেনি। সঞ্চয় যা ছিল সব আগুনেই গেছে। তাই সাধ্যও নাই ছেলের জন্য যে জামা নিব। তার অভিযোগ, বিতরণের সামগ্রী কেউ পাচ্ছে পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না।
ফরিদ কলোনির মালিক ফরিদ সওদাগর বলেন, এখানে মেয়র ও নওফেল সাহেব এসেছেন। কোনো তালিকা ছাড়া সবাইকে সাহায্য করেছেন। যার কারণে অনেকে তা পেয়েছেন, অনেকে পাননি। গতকাল দুপুরে আমি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার ব্যবস’া করেছি। আমার কলোনির যারা ছিল, তাদের বলেছি বাসা আবার ঠিক করে দিব, তবে সময় লাগবে।